• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:২৬ দুপুর

কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যে আমদানি শুল্ক আরো বাড়ানোর জোর দাবি

ছবি: সংগৃহীত

আগ্রাসনে রূপ নিয়েছে ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকস, হোমকেয়ার ও স্কিনকেয়ার পণ্য। এ ভয়াবহতা দিন দিন শুধু বাড়ছেই। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত এবং সঠিক নীতিমালা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। কারণ জনসম্পৃক্ত এসব বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে চরম হুমকির মুখে পড়বে জনস্বাস্থ্য।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি)-এর সম্মেলন কক্ষে ‘ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন: ভোক্তার সুরক্ষায় প্রয়োজন কঠোর নীতিমালা’ শীর্ষক সেমিনে এসব কথা বলেন বক্তারা।

ডিএনসিআরপি ও অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম।

সেমিনারের প্রধান অতিথি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন রোধে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তিনি হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজারের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, এই বাজারে প্রবেশে দেশের কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যের রয়েছে অপরিসীম সুযোগ। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মূল প্রবন্ধে ড. আইনুল ইসলাম বলেন, দেশে কসমেটিকস খাত অনেক উপেক্ষিত। অথচ কসমেটিকস কেবল সাজসজ্জা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণ এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে জড়িত। ভেজাল ও নিম্নমানের আমদানিকৃত পণ্যের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, এ অবস্থা দেশিয় শিল্পের বিকাশকে রূদ্ধ করছে। উল্লেখ করেন, ভেজাল পণ্য আসল পণ্যের চেয়ে সস্তায় মিললে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকর না থাকলে, খারাপ পণ্য ভালো পণ্যকে বাজার থেকে বিতাড়িত করে। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ইসহাকুল হোসেন সুইট ব্যবসা সহজীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কসমেটিকস শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে আরোপিত ১২৭.৭২ শতাংশ শুল্ক দেশীয় শিল্পের বিকাশে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এই উচ্চ শুল্কহার উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। দেশীয় শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কাঁচামাল আমদানিতে এই শুল্ক কমিয়ে নামমাত্র পর্যায়ে আনার দাবি জানান তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)-এর সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ক্রয় থেকে বিরত থাকতে ভোক্তাদের সর্বোচ্চ সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোক্তার সচেতনতা বাড়লেই ভেজাল পণ্যের বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সাহিদ হোসেন বলেন, ভেজাল পণ্যের বিস্তার রোধ ও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাঁচামাল আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক অবশ্যই কমাতে হবে। তাঁর মতে, কাঁচামালে শুল্ক কমানো হলে শিল্প-উদ্যোক্তারা আরও বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন, যা শিল্পের টেকসই বিকাশে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ করে আমদানিকৃত কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

এসএমই ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান, দেশীয় শিল্পের টেকসই বিকাশের স্বার্থে লাগেজ পার্টি বা অনানুষ্ঠানিক পথে পণ্য আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ওপর জোর দেন। তার মতে, লাগেজ পার্টির মাধ্যমে নিম্নমানের ও অনিয়ন্ত্রিত পণ্যের প্রবেশ দেশীয় শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি জোরালো আহ্বান জানান।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শারমিনা হক ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকস পণ্য ব্যবহারের ভয়াবহ দিক তুলে ধরে বলেন, এসব পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে কেউ কেউ চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এই ঝুঁকি এড়াতে ভোক্তাদেরই সবার আগে সচেতন হতে হবে এবং ব্যবহৃত কসমেটিকস পণ্যটি নিরাপদ ও মানসম্মত কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ভেজাল ও ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি ও নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

এছাড়াও সেমিনারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুল ইসলাম, উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতান, বিএসটিআই-এর উপ-পরিচালক আলাউদ্দিন হুসাইন ও সিনিয়র সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]