ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সপ্তাহ খানেক আগে নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ও তুলনামূলকভাবে ভালো আছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান আল মাছউদ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি আব্দুর রহমান আল মাছউদ এসব কথা বলেন।
নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ কেমন আছে- এক প্রশ্নের জবাবে ইসি আব্দুর রহমান আল মাছউদ বলেন, "আমরা মনে করি, নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে, তুলনামূলকভাবে ভালো আছে তো অবশ্যই বলব।" ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে দলগুলোর সহযোগিতা চান তিনি।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, "আমরা সব রাজনৈতিক দলের কর্মী, তাদের নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আবেদন জানাই, তারাও একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সহযোগিতা করবেন এবং তাদের তরফ থেকে যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তারা সেটাই গ্রহণ করবে।"
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুই ভোট উপলক্ষে ইসি সচিবালয় ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রমের সমন্বয় বিষয়ক সভা হয় বুধবার বেলা ১১টায়। চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী কার্যক্রমের সমন্বয় বিষয়ক সভা সম্পর্কে ইসি আব্দুর রহমান আল মাছউদ বলেন, "আজকের মিটিংয়ে সর্বশেষ আমাদের যে প্রস্তুতি এবং সে প্রস্তুতি সম্পর্কে জাস্ট আমরা অবহিত হলাম।"
এখন পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকেই যাচ্ছে, দুই প্রার্থীর শীর্ষ নেতারাও পরস্পর বিরোধী কথা বলছে—এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—জানতে চাইলে ইসি আব্দুর রহমান আল মাছউদ জানান, সারা বাংলাদেশে ৩০০ জন বিচারকের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। তাছাড়া অনেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।
"কাজেই আমরা মনে করি, যে কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে, এই ধরনের যদি অভিযোগ কেউ করেন, অনুগ্রহপূর্বক ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে আপনারা প্রতিকার চাইতে পারেন," যোগ করেন এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি জানান, কোনো তথ্যের ভিত্তিতে বা ওই কমিটির নিকট যদি কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করে, অভিযোগের ভিত্তিতে অথবা কোনো রিপোর্টের ভিত্তিতে ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি ও এক্সিকিউটিং কমিটি, অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। তারা বিষয়টিকে আমলে নেবে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা তদন্ত সাপেক্ষে কমিশনের নিকট তাদের প্রতিবেদন প্রেরণ করবে, সুপারিশ প্রেরণ করবে, সেই মোতাবেক তাদের শাস্তি দেওয়া হবে বা তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আব্দুর রহমান আল মাছউদ জানান, বহু ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন জায়গায় বহু লোককে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ইতিপূর্বে শাস্তি দিয়েছেন, জরিমানা করেছেন।
যদি মোবাইল কোর্ট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ নিজেরাই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সে বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—জানতে চাইলে ইসি আব্দুর রহমান আল মাছউদ বলেন, যদি নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন বা আইন ভঙ্গ করেন বা তার ভিতরে পক্ষপাতিত্ব দেখা দেয়, তাহলেও যে কেউ ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আর যদি খুব গুরুতর কোনো বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেও তা আমলে নিতে পারেন এবং একটি কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
ঢাকা-১৭ আসনে একজন প্রার্থী যদি কোনো বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোনো বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা যেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই সেখানে যদি যাওয়ার চেষ্টা করেন, সেটা কি আচরণ ভঙ্গ হয় কিনা—জানতে চাইলে আব্দুর রহমান আল মাছউদ বলেন, "এই প্রশ্নটা খুব জটিল প্রশ্ন। দুর্ব্যবহার কী ধরনের দুর্ব্যবহার, আইনের সেই দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে আচরণবিধি ভঙ্গ বোঝায়, তাহলে তারা নিশ্চয়ই তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।"
তিনি বলেন, "এটা ঘটনা থেকে ঘটনার ভিত্তিতে, মামলা থেকে মামলার ভিত্তিতে বলতে হবে। একেবারে অভিন্ন একটি কথা কিন্তু বলা যাবে না।"
ঢাকা-১৭ আসনে একজন প্রার্থী সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং যেখানে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার কথা না সেখানে জোরপূর্বক যেতে চাইছেন এবং একটি বাহিনীকে খুব অশালীন ভাষায় কথাবার্তা বলেছেন, সে ক্ষেত্রে এটা কি আচরণবিধি ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে কিনা, জানতে চাইলে আব্দুর রহমান আল মাছউদ বলেন, বিষয়টি সবই তদন্তের বিষয়। কেউ যদি ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এবং সেই কমিটি ঘটনার সত্যতা যদি পায় এবং যদি দেখে যে কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রার্থী বা কোনো ভোটার যে কেউ হোক তিনি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, তাহলে তিনি প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কমিশনের নিকট সুপারিশ করবেন এবং কমিশন সে মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচন বাতিল প্রসঙ্গে ইসি আব্দুর রহমান আল মাছউদ জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
"কারণ, তফসিল ঘোষণা করতে হবে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিয়ে। আপিলের সময় আছে, স্ক্রুটিনির সময় আছে, কাজেই এই নির্বাচন কখন হবে এই মুহূর্তে এখন আমরা ঘোষণা দিতে পারছি না।"
নতুন তফসিলের বিষয়ে কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর