মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রাত শবে বরাত। এটি আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি, সৌভাগ্য ও নাজাত। এ উপলক্ষে অনেক মুসলমান নফল রোজা পালন করে থাকেন। তবে শবে বরাতের নফল রোজা রেখে কেউ যদি তা ভেঙে ফেলেন, তাহলে কি কাজা আদায় করতে হবে এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়।
এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরাম (ইসলামি আইনবিদরা) বলেন, কেউ নফল রোজা শুরু করলে তা পূর্ণ করা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যায়। সুতরাং নফল রোজা ভেঙে ফেললে পরবর্তীতে ওই রোজার কাজা আদায় করা ওয়াজিব, অর্থাৎ ওই দিনের পরিবর্তে অন্য একদিন রোজা রাখতে হবে ভাঙার কারণ গ্রহণযোগ্য হোক বা না হোক।
তবে যদি সফর, অসুস্থতা বা অন্য কোনো শরয়ি ওজর থাকে, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলার কারণে কোনো গুনাহ হবে না। আর কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই নফল রোজা ভেঙে ফেললে অনেক আলেমের মতে তা মাকরুহ। যদিও কিছু আলেম বলেছেন, যদি কাজা আদায়ের নিয়ত থাকে, তাহলে ওজর ছাড়াও নফল রোজা ভাঙা মাকরুহ নয়।
প্রখ্যাত হানাফি ফকিহ আল্লামা ইবনে মওদুদ মওসিলি তার বিখ্যাত গ্রন্থ আল-ইখতিয়ার-এ উল্লেখ করেছেন, নফল ইবাদত শুরু করলে তা পূর্ণ করা এবং ভেঙে ফেললে কাজা আদায় করা আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে তিনি কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করেন তোমরা তোমাদের আমলগুলো বাতিল করো না। (সুরা মুহাম্মদ: ৩৩)
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এক সাহাবিকে নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নফল রোজা ভেঙে আপনার ভাইয়ের দাওয়াতে সাড়া দিন এবং এর পরিবর্তে অন্য একদিন রোজা রাখুন।
অন্য এক হাদিসে বর্ণিত, হজরত আয়েশা (রা.) ও হজরত হাফসা (রা.) নফল রোজা রেখে তা ভেঙে ফেললে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলেন, এই রোজার পরিবর্তে আরেক দিন রোজা রাখো এবং পুনরায় এমন করো না। (সূত্র: আল-ইখতিয়ার লিতা’লীলিল মুখতার, ১/৬৬)
আলেমদের মতে, শবে বরাতসহ যেকোনো নফল রোজার ক্ষেত্রে এসব বিধান প্রযোজ্য। তাই নফল রোজা পালনের আগে এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর