বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার বলেছেন, নতুন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে জনগণ এবার দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তারা শাসক হিসেবে জনগণকে শোষণ করেছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শাসক নয়, জনগণের খাদেম ও সেবক হিসেবে কাজ করবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ৯ নম্বর কায়েমপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কায়েমপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর জমসিদ মিয়া।
আতাউর রহমান সরকার আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ইনশাআল্লাহ স্বাস্থ্য খাতে একটি বিপ্লব ঘটানো হবে। কসবা–আখাউড়া উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, পাঁচটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স প্রদান এবং বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে মেধাবী ও যোগ্য করে গড়ে তোলা হবে। যারা বেকার ভাতার কথা বলে, তারা মূলত তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সবাইকে একসাথে নিয়ে বিজয় উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান—সমতল মাঠ নিশ্চিত করুন, নির্বাচনী প্রচারে যারা বাধা সৃষ্টি করছে তাদের আইনের আওতায় আনুন। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। তবে অহেতুক উসকানি দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভালো হবে না। পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যেভাবে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, ঠিক একইভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ নির্বাচনী আসনের নির্বাচন পরিচালক কাজী সিরাজুল ইসলাম, কসবা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর দ্বীন ইসলাম ভুইয়া, দাঁড়িপাল্লার প্রধান এজেন্ট শিবলী নোমানী, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ভিপি ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল বারী, কায়েমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সরকার, অধ্যাপক মোবারক হোসেন, আল আমিন সরকার, জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সাইফুল আল আরিফ, কসবা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদ মোল্লা এবং এনসিপির কসবা উপজেলা ১ নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারী তানভীর ইসলাম শাহীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়া একই দিন বিকাল ৩টায় বাদৈর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি জনসভায়ও আতাউর রহমান সরকার প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর