আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে স্বর্ণ, রুপা, অপরিশোধিত তেল ও তামাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ফোনালাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের সম্ভাব্য বৈঠকের খবরে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে আসছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পতনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রুপা—এর দাম এক পর্যায়ে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। একই সময়ে স্বর্ণ, অপরিশোধিত তেল ও তামার দাম গড়ে প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়ে ওঠায় পণ্যবাজারে বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে, কারণ বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের দাম ডলারে নির্ধারিত হয়।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। তার মতে, সাম্প্রতিক দরপতন সেই অস্থিরতারই একটি ধারাবাহিক প্রতিফলন।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের বাজারে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্যচাপ কমে এসেছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পর বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা উচ্চ দামে স্বর্ণ বিক্রিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
এদিকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে এশীয় লেনদেনে ডলার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। ডলার সূচক দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি অবস্থান করছে। শক্তিশালী ডলারের কারণে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য পণ্য কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা পণ্যের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সপ্তাহের শুরুতেই পণ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয়, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শকে সম্ভাব্য ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়নের ইঙ্গিত দেন। এতে কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কা বাড়ে, ডলার আরও শক্তিশালী হয় এবং সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার আকর্ষণ কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার ওমানে বৈঠকে বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা হ্রাস পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে, ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।
অন্যদিকে তামার বাজারেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের গুদামে মজুত বৃদ্ধির খবরে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। যদিও এর আগে চীন কৌশলগতভাবে তামার মজুত বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় দামে সাময়িক ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল।
ওসিবিসি ব্যাংকের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, বাজারে তারল্য কম থাকায় একটি খাতে বিক্রি শুরু হলে তা দ্রুত অন্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে দরপতন আরও তীব্র হচ্ছে। এর প্রভাব মূল্যবান ধাতু, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং আঞ্চলিক শেয়ারবাজারেও পড়েছে।
তবে অন্যান্য পণ্যের বিপরীতে সয়াবিনের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং তা দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য—চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করছে—এই প্রত্যাশায় বাজারে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুতের চাপের কারণে লৌহ আকরিকের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর