রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে পুলিশের মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শাহবাগ থানার গেটের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
আহত শিক্ষার্থীর নাম সাব্বির আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র। এ বিষয়ে তিনি শীঘ্রই শাহবাগ থানায় জিডি করবেন বলেও জানান।
জানা যায়, পুলিশের মারধরের পর সেই শিক্ষার্থী কোনোভাবে দৌড়ে শাহবাগের একটি ফুলের দোকানে আশ্রয় নেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর সেখান অবস্থানের পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হলে পৌছে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমদ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ঘটনার বর্ননা দিয়ে জানান, তিনি তার বিভাগের এক আপুকে সঙ্গে নিয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করতে যান। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রথমে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলেন। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর থানার সার্ভার সমস্যার কথা বলে জিডি করতে দেরি হবে। জানানো হয়। পরে বন্ধুকে খুঁজতে থানার সামনে গেলে এক পুলিশ সদস্য তাকে জিজ্ঞেস করেন কেন এসেছেন। জিডি করতে এসেছেন বলে জানালে তাকে থানার ভেতরে যেতে বলা হয়।
তিনি বলেন, তবে ভেতরে ঢোকার সময় থানার গেটের সামনে কিছুক্ষণ পরই কয়েকজন পুলিশ কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করেই লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারতে থাকেন। মারধরের ফলে আমার হাত ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। ডান হাতের কব্জিতে বেশি আঘাত পাওয়ায় তাৎক্ষণিক এক্স-রে করাতে হয়েছে।
তাছাড়া পুলিশ আমাকে মারার সময় আমার পকেটে থাকা আইফোন ফোনটি পুলিশের লাঠির আঘাতে একদম ভেঙে যায়। এই ফোনটা আমার খুবই কষ্টের টাকায় আমার লোনের টাকায় কেনা ছিল। ফোনের টাকাও এখনো সম্পূর্ণ পরিশোধ করি নাই। এই ফোন বা এই পরিমাণ টাকা আমার জন্য অনেক বেশি যেটা আমার সামর্থ্যের বাইরে। এখন আমি ক্ষতিপূরণ চাইবো কার কাছে বা বিচার চাইবো কার কাছে।
পুলিশ থানা প্রাঙ্গনে আমাকে এভাবে অত্যাচার করেছে, নির্যাতন করেছে। আমি আমার নাগরিক অধিকার নিতে থানায় গিয়ে আহত হয়ে ফিরেছি। কার কাছে বিচার চাইব? থানায় গেলে হয়তো আবারও হামলার শিকার হবো।
তিনি বলেন, এখনো অভিযোগ করিনি। তবে আজকে প্রক্টর অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানাবো।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, গতকাল তাকে জহুরুল হক হল সংসদের সহায়তায় উদ্ধার করে মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হলে পৌঁছে দেওয়া হয়। সে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এদিকে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানের একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফায় আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াতে ইনকিলাব মঞ্চের একাধিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য আহতের ঘটনা ঘটে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর