ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় পল্লীবিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ধানখেত শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দিনে ও রাতে মিলিয়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। অনেক সময় পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গভীর নলকূপ ও সেচ পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জমিতে সময়মতো পানি দিতে না পারায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
উপজেলার এক কৃষক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালাতে পারছি না। ডিজেল দিয়ে সেচ দিতে গেলে খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।
আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, রাতে বিদ্যুৎ আসবে ভেবে অপেক্ষা করি, কিন্তু কখন আসে আর কখন যায় বোঝা যায় না। ফসল নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।
শুধু কৃষকরাই নয়, সাধারণ গ্রাহকরাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে পড়েছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ হালুয়াঘাট জোনাল অফিসের এজিএম (ও এন্ড এম) মোহতাসিম বিল্লাহ বলেন, হালুয়াঘাট উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গুড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র চার থেকে সাড়ে চার মেগাওয়াট।
এ কারণে প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং চলছে এবং স্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের জনআক্রোশের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, বোরো মৌসুমে খাদ্য উৎপাদনের জন্য হালুয়াঘাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই সময়ে সেচ ব্যাহত হলে ফসলের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকরা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় চলতি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর