কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে ভোটের আর মাত্র একদিন বাকি। এমন সময়ে আলোচিত প্রার্থী জগদীশ বড়ুয়ার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। দলটির মনোনয়ন নিয়েই তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দলটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সই করা এক চিঠিতে বিষয়টি কক্সবাজারের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানকে জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে জগদীশ বড়ুয়ার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জগদীশ বড়ুয়া যেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির নাম, প্রতীক, পরিচয় বা দলীয় অনুমোদনের ভিত্তিতে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, এজেন্ট নিয়োগ কিংবা ভোটকেন্দ্রসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন- সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর এ ধরনের সিদ্ধান্তের কোনো আইনগত ভিত্তি থাকে না।
তিনি বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ব্যালট পেপার ছাপা হয়ে গেছে। এই পর্যায়ে এসে কিছু পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রার্থিতা বহাল থাকলে ব্যালটে তার নাম ও প্রতীক অপরিবর্তিতই থাকবে। দল সমর্থন প্রত্যাহার করলেও প্রার্থীর আইনি অবস্থান তাতে সরাসরি প্রভাবিত হয় না, যদি না তিনি নিজে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
জগদীশ বড়ুয়া কক্সবাজারের রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। একসময় তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ‘মঙ্গল পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করলেও দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেও মনোনয়ন পাননি। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই তিনি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
কখনও তার বক্তব্য, কখনও তার প্রচারণা পদ্ধতি নেটিজেনদের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। নির্বাচনের প্রেক্ষাপট কক্সবাজার-৩ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সদর, রামু ও ঈদগাঁও নিয়ে গঠিত এই আসনে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। ভোটের দুই দিন আগে এমন সমর্থন প্রত্যাহারের ঘটনা নির্বাচনী অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নেটিজেনদের মধ্যে হাসাহাসির ঝড় ওঠে। তার নির্বাচনী প্রচারণার ধরন বা আচরণ অনেক সময়ই অপ্রচলিত ও অনন্য হয়ে থাকে। কখনও ব্যতিক্রমী পোশাক বা বক্তব্য, কখনও অচেনা স্টাইলের পোস্টার বা ভিডিও- এসবই তাকে সাধারণ প্রার্থীদের থেকে আলাদা করে তোলে। ফলে মানুষ তার কর্মকাণ্ডকে মনোরঞ্জন হিসেবে দেখে, কখনও হাসে, কখনও অবাক হয়। এর ফলে নির্বাচনী মঞ্চে তার উপস্থিতি সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। যে কোনও জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেই, তার এই উদ্ভট আচরণ দ্রুত নেটিজেনদের নজরে আসে এবং সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, শেষ মুহূর্তের এ সিদ্ধান্তে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। আবার কেউ বলছেন, যেহেতু ব্যালট ছাপা হয়ে গেছে এবং প্রার্থিতা বহাল রয়েছে, বাস্তবে ভোটের ফলাফলে এর প্রভাব সীমিতই হতে পারে।
এ বিষয়ে জগদীশ বড়ুয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ বলছেন, তিনি নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে তারা রাজনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে দেখছেন।
ভোটের প্রাক্কালে সমর্থন প্রত্যাহারের এ ঘটনা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া ও সময়সীমা বিবেচনায় প্রার্থিতা বহাল থাকায় ভোটের মাঠে শেষ কথা বলবে ব্যালটই। এখন দেখার বিষয়, দলীয় সমর্থন ছাড়াই জগদীশ বড়ুয়া কতটা লড়াই ধরে রাখতে পারেন, আর ভোটাররা এ ঘটনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর