দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
দিনের শুরুতেই ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সকাল ৮টায় ঢাকা-১৫ আসনের ৬০ ফিট এলাকায় অবস্থিত মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (বালক শাখা) কেন্দ্রে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। মোট আসন ৩০০ হলেও এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত থাকায় আজ ভোট হচ্ছে ২৯৯ আসনে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৮১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি—‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘হাতপাখা’ প্রতীকে দিয়েছে ২৫৮ জন প্রার্থী। জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে লড়ছেন ২২৯ জন। জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে আছেন ১৯৮ জন প্রার্থী। ৫ আগস্টের আন্দোলন ঘিরে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষক অনুমোদন পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।
সারা দেশে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৬৫৯টি, যার মধ্যে দুর্গম এলাকায় কিছু অস্থায়ী কেন্দ্রও রয়েছে। মোট বুথ (ভোটকক্ষ) ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি- এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি পুরুষ বুথ এবং প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি নারী বুথ। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র ঢাকা বিভাগে। গাজীপুর-২ আসনকে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইসি।
ভোটগ্রহণ পরিচালনায় ২৯৯টি আসনে ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন দায়িত্ব পালন করছেন।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে—একটিতে সংসদীয় আসনের প্রার্থীর প্রতীক এবং অন্যটিতে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর