প্রায় সাড়ে তিন শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য নিয়ে দেশের সনাতনী হিন্দু ও মাড়োয়াড়ি সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ মহাতীর্থ স্থান সদর উপজেলার বেলআমলাতে অবস্থিত ঐতিহাসিক বারশিবালয় মন্দিরে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হবে দুদিন ব্যাপী শিবরাত্রি উৎসব। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হিন্দু সম্প্রদায়ের পদভারে মূখরিত হয়ে উঠবে বারশিবালয় প্রাঙ্গণ।
জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর দিকে বেলআমলাতে অবস্থিত বারশিবালয় মন্দির। যার আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে আরও একটি এক শিবমন্দির ও পাঁচ শিব মন্দির নামে আরো দুটি মন্দির।
ফাল্গুনের চতুদর্শীতে শিবরাত্রি উপলক্ষে প্রায় সাড়ে তিন শত বছেরর পুরনো ঐতিহ্য হিসেবে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৪ প্রহরব্যাপী পূজার পাশাপাশি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। দুদিন ব্যাপী আয়োজিত উৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে আসবে বিপুল সংখ্যক হিন্দু মোড়োয়ারি সম্প্রদায়ের ভক্তরা। ভক্তদের মুখে ধ্বনিত হবে ”সত্যম শিবম সুন্দরম”, ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় করুণত্রয় হে'তবো। নিবেদায়ী চাত্নানাং ত্বগিত পরমেশ্বর”।
আগত ভক্তদের এখানে থাকা- খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মনের নানা বাসনা পুরনের আশায় পূন্নার্থীরা বারশিবালয় মন্দিরে আসেন। বারশিবালয়ের উত্তর পাশ ঘেঁসে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর জলে বারুনীস্নান শেষে পূজা অর্চনা শুরু করেন ভক্তরা। মেলায় রয়েছে বিভিন্ন রকমের চামুচ, খন্তা, বেরী, দা, বটি, হাসুয়া, পান কাটি, পূজার ঘরের সাজ, বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিস পত্র ।
এ ছাড়াও কাঠের ও লোহার তৈরি বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র পাওয়া যায়। শিশুদের খেলনা, শাঁখা-সিঁদুর, সহ মিষ্টি-মিষ্টান্নও পাওয়া যায় এখানে। শিবরাত্রি উৎসব সনাতন হিন্দু পরিবার, বিশেষ করে মাড়োয়াড়ি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও বারশিবালয় মন্দির প্রাঙ্গন পরিনত হয়ে ওঠে হিন্দু-মুসলিমের অসাম্প্রদায়িক মিলন মেলায়। শিবরাত্রি উৎসব উপলক্ষে বারশিবালয়ের আশপাশের গ্রাম গুলোতে মেয়ে-জামাইদের আগমন ঘটে। রোববার ত্রয়োদশী সন্ধ্যা ৬ টা ৩৫ মিনিটে শুরু হবে চতুর্দশী সোমবার জয় মা কালীর অমাবশ্যা পূজার মধ্য দিয়ে পুন্নার্থীদের মিলন মেলা শেষ হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুষ্ঠুভাবে শিবরাত্রি উদযাপনে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বারটি শিবমন্দির একসঙ্গে থাকায় নাম হয় বারশিবালয়। কত বছর আগে এটি নির্মিত তা সঠিক ভাবে জানা না গেলেও প্রায় সাড়ে তিন শত বছর আগের তৈরি বলে মনে করেন বারশিবালয় মন্দির কমিটির সদস্যরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের মহাতীর্থস্থান বারশিবালয় মন্দির শিবরাত্রি উৎসব ও মেলায় সকল ধর্মের লোকজন অংশগ্রহন করে থাকেন বলে জানান, বারশিবালয় মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ আগরওয়ালা।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর