ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় এসেছেন ৫৯ বছর বয়সী মুফতি আবুল হাসান। মসজিদের মিম্বর থেকে সরাসরি জাতীয় সংসদে যাওয়ায় তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট-৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
পেশায় ইমাম ও খতিব মুফতি আবুল হাসান একটি মাদরাসায় শিক্ষকতাও করেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ইসলামী বক্তা হিসেবেও সুপরিচিত। নির্বাচনে জয়ের পরদিনও তিনি মসজিদে ইমামতি করেন।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের মনোনয়নে ‘দেয়াল ঘড়ি’ প্রতীকে তিনি ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উবায়দুল্লাহ ফারুক ‘খেজুরগাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। ৯ হাজার ৫৮১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন আবুল হাসান।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রতিক্রিয়ায় মুফতি আবুল হাসান বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল মিম্বর থেকে দেশ পরিচালনা করেছেন। আমরা সেই রাসূলের উম্মত। সেই ধারাবাহিকতায় মসজিদের মিম্বর থেকে আলহামদুলিল্লাহ এখন সংসদ ভবন পর্যন্ত পৌঁছেছি দেশের ও মিল্লাতের খেদমতের উদ্দেশ্যে। ইনশাআল্লাহ আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার লক্ষ্য জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। যেসব ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সেসব খাতের উন্নয়নে কাজ করা হবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের মাঝরগ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ ও মোছাম্মাৎ আছারুন বিবি দম্পতির সন্তান। ১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি বর্তমানে সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন তিনি। বর্তমানে জকিগঞ্জের জামিয়া ইসলামিয়া দারুসসুন্নাহ মোহাম্মদিয়া লামারগ্রাম মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন।
এছাড়া ২০০০ সালের জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর