ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে স্বামীর আদেশ অমান্য করে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার। এই ঘটনার পর গৃহবধূ বিবি জহুরার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি নেতারা।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ জহুরার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার। তারা জহুরা, তার শাশুড়ি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
মশিউর রহমান বিপ্লব বলেন, “জহুরার বিপদে বিএনপি পাশে থাকবে। তার সংসার পুনঃস্থাপন, পরিচালনা এবং সন্তানদের ভরণপোষণে দল সহযোগিতা করবে।” অন্যদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস ছাত্তার জানান, “জহুরাকে আইনি ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া হবে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কাওসার মৌখিকভাবে জহুরাকে তালাক দেওয়ার পর জনরোষের মুখে তিনি এলাকা ছেড়ে যান। তবে শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে ফেরেন। স্থানীয়দের চাপে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে একজন মুফতির পরামর্শ নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে পুনরায় সংসার করার ইচ্ছার কথা জানান।
জহুরা বলেন, “জীবনের প্রথম ভোট আমি ধানের শীষ প্রতীকে দিয়েছিলাম। এর জেরেই আমাকে তালাক দেওয়া হলো। আমি চাই ধর্মীয় ও সামাজিক সমাধানের মাধ্যমে স্বামীর সংসারে ফিরে যাই।” বর্তমানে তিনি তিন সন্তান ও শাশুড়ির সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন।
কাওসারের মা শরীফা খাতুন বলেন, ছেলে যে অপরাধ করেছে তার জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। জহুরাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে কাওসারকে আর বাবার ঘরে জায়গা দেওয়া হবে না।
২০১৩ সালে জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। পরিবারের আর্থিক সংকটে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরে আবদ্ধ।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর