কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কল্পবাস এলাকায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সিরাজুল ইসলাম (৪৫) নামের এক গ্রীস প্রবাসীকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কল্পবাস এলাকায় গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। আহত সিরাজুল ইসলাম উপজেলার কল্পবাস এলাকার মৃত শরাফত আলীর ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, রোববার সকাল ৮টার দিকে কল্পবাস কবরস্থানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ১৯৯৮ সালে জীবিকার তাগিদে তিনি লেবাননে যান। সেখানে কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্থানীয় ফুফাতো ভাই বজলু মিয়ার কাছ থেকে ২৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে ২০২০ সালে গ্রীসে পাড়ি জমান। ২০২৪ সালে দেশে ফিরে ক্রয়কৃত জমিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিরোধ এড়াতে তিনি ব্রাহ্মণপাড়া সদরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, রোববার সকালে জমিতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলাকারীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। “চাঁদার টাকা না দিয়ে এই জায়গায় কেন আসছো” বলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার দুই পা ভেঙে যায়। বর্তমানে অভিযুক্তরা জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ব্রাহ্মণপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে সিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশ দূতাবাস, এথেন্স (গ্রীস) এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীসে আইনি সহযোগিতা চেয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলেও জানা গেছে।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন,কল্পবাস গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে শাহ আলম প্রকাশ জসিম, হুমায়ুন কবির, কাউছার এবং মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে রুবেল।
অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপন বড় ভাই শহীদের জায়গা ও পুকুর লিজ নিয়ে দ্বন্দ্বে তাকে পিটিয়েছি। চাঁদা দাবির বিষয়টি সঠিক নয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তাদের এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমরা সালিশের চেষ্টা করেছি, কিন্তু অভিযুক্তরা তা মানেনি। মারধরের ঘটনা সত্য।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় একটি অভিযোগ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর