জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) প্রায় ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা বকেয়া মাথায় নিয়ে নতুন ৪ জন জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করায় কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় তিনটি পদের বিপরীতে চারজন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি পৌর প্রশাসকের নিকট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধের পূর্বে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত রাখতে লিখিত অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভায় বর্তমানে স্থায়ীভাবে প্রায় ২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক ২১ জন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক ২৬ জন সুইপার দায়িত্ব পালন করছেন। পৌর পানি সরবরাহ শাখায় স্থায়ী পদে রয়েছেন ২ জন এবং দৈনিক হাজিরাভিত্তিক আরও ৪ জন কর্মরত রয়েছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া ভবিষ্যৎ তহবিল বাবদ ৯৭,৩৩,৪৯১.০০ টাকা, ৭ কর্মচারীদের বকেয়া/মৃত্যুজনিত বকেয়া ১,১৭,১২,৩৮৬.০০ টাকা, আনুতোষিক বকেয়া ২,০০,০০,০০০.০০ টাকাসহ মোট ৪ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ৮৭৭ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে পৌর কর্মচারীদের অভিযোগ। এছাড়াও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পৌর সভার কাছে প্রায় ২ কোটি টাকা পাওনা বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকার আর্থিক দায় মাথায় নিয়েই পৌর প্রশাসন নতুনভাবে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক কর্মচারী জানান, আগে বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা উচিত। তা না করে নতুন নিয়োগ দিলে পৌরসভার আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড সংরক্ষণ ও পরিশোধ করা পৌর কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতা। পাশাপাশি নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, অনুমোদিত জনবল কাঠামো ও প্রশাসনিক অনুমতি অনুসরণ করা আবশ্যক হলেও তা মানা হচ্ছে না বলে সূত্র জানায়।
সরিষাবাড়ী পৌর সভার প্রশাসক লিজা রিছিল বলেন, গত ৩/১০/২০১১ ইং তারিখের এক পত্রের নির্দেশনা মোতাবেক এবং শূন্যপদে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজের গতি বাড়াতে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর