গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের মোজাহিদপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক ৩৫ এবং অপরজনের ৪০ বছর হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
জানা যায়, ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনজন একটি মোটরসাইকেলে করে মোজাহিদপুর এলাকায় প্রবেশ করে। পথে এক পথচারীকে জিম্মি করে ডাকাতির চেষ্টা চালায় তারা। ওই ব্যক্তির চিৎকারে আশপাশের বাড়ি থেকে লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাত দলের একজন পালিয়ে যায়। বাকি দুজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেহরির জন্য বাড়িতে জেগে থাকা অবস্থায় অনেকেই চিৎকার শুনতে পান। ডাকাতির খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। উত্তেজিত জনতা দুজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে পুলিশ।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গণপিটুনির কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলিম উদ্দিন বলেন, এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিহতরা প্রকৃতপক্ষে ডাকাত ছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তাদের কাছে ডাকাতির কোনো সরঞ্জাম বা অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই তিনজন এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এসেছিল। তাদের মোটরসাইকেলটি নম্বরপ্লেটবিহীন ছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশের ধারণা, নিহতরা পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য হতে পারেন। তবে পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নিহতদের আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর