রমজানে অনেকেরই ঘুম ভাঙে সেহরির একেবারে শেষ সময়ে। তখন তাড়াহুড়ো করে অল্প কিছু খেয়ে পানি পান করেই রোজা শুরু করেন অনেকে। তবে এভাবে দ্রুত সেহরি করা শরীরের জন্য সব সময় উপকারী নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার প্রস্তুতি
সেহরি হলো রোজার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার, কারণ এরপর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়। এ সময় শরীর গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনের মজুদ থেকে শক্তি সংগ্রহ করে। সেহরিতে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও পানি না থাকলে দুপুরের পর থেকেই দুর্বলতা, মাথাব্যথা বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ জরুরি।
দ্রুত খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
তাড়াহুড়ো করে সেহরি করলে শুধু কম খাওয়ার সমস্যা নয়, আরও কিছু শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
প্রথমত, খাবার ঠিকমতো চিবানো হয় না। ফলে হজমে সমস্যা, গ্যাস বা অম্বল বাড়তে পারে।
দ্বিতীয়ত, খুব দ্রুত খেলে পাকস্থলীতে হঠাৎ চাপ পড়ে, যা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
তৃতীয়ত, পর্যাপ্ত পানি পান না করলে দিনের শুরু থেকেই পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস হজমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যাও বাড়াতে পারে।
সেহরিতে কী খাবেন
পুষ্টিবিদরা সেহরিতে এমন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং পেট ভরা রাখে। যেমন—
*ধীরে শক্তি সরবরাহ করে এমন কার্বোহাইড্রেট (ওটস, লাল চাল, রুটি)
*প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (ডিম, ডাল, দুধ)
*স্বাস্থ্যকর চর্বি (বাদাম বা বিভিন্ন বীজ)
*পর্যাপ্ত পানি
এ ধরনের খাবার দীর্ঘ সময় তৃপ্তি দেয় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কম রাখতে সহায়তা করে।
মানসিক চাপও বাড়তে পারে
ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ তাড়াহুড়ো শুরু করলে শরীর চাপের প্রতিক্রিয়ায় সাড়া দেয়। এতে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়তে পারে, যা রক্তচাপ ও হৃদ্স্পন্দন বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সেহরি খাওয়ার জন্য অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় রাখা ভালো।
এক-দুই দিন তাড়াহুড়ো করে সেহরি করলে বড় সমস্যা নাও হতে পারে। তবে পুরো মাসজুড়ে এভাবে চলতে থাকলে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর