কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ- এর বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস–কে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বরিশালে দুটি আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তারা বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–এ বিচারিক কার্যক্রম বর্জন করেন।
বর্জন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতা হাফেজ উদ্দিন আহমেদ খান বাবলু। তিনি দাবি করেন, জামিন অযোগ্য ধারায় দায়ের করা মামলায় এভাবে জামিন দেওয়ার সুযোগ নেই। তার অভিযোগ, তিনি মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও তার অনুপস্থিতিতে জামিন শুনানি হয়েছে এবং তাকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের তিনজন ও আসামিপক্ষের তিনজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এভাবে একের পর এক জামিন দিলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অজামিনযোগ্য ধারার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে তার দায় সরকারের ওপর বর্তাবে।
আদালত সূত্র জানায়, সোমবার আত্মসমর্পণের পর একটি মামলায় তালুকদার মো. ইউনুস জামিন পান। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরীয়তউল্লাহ তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল সদর রোড এলাকায় বিএনপির একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৩০০ থেকে ৪০০ নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।
ঘটনার প্রায় সাত বছর পর, ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর সদর উপজেলার টুঙ্গীবাড়িয়া ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছরোয়ার হোসেন বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন। বরিশাল মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে দায়ের করা মামলায় একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।
অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর, তালুকদার মো. ইউনুস, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বলরাম পোদ্দার এবং সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর দুই ভাই মইনউদ্দীন আব্দুল্লাহ ও আশিক আব্দুল্লাহ।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর