মেক্সিকোর এক কুখ্যাত মাদক সম্রাটের মৃত্যুতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে। অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটি কি আসলেই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে প্রস্তুত হতে পারবে কি না।
তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই বিষয়ে আশাবাদী।
মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইনফান্তিনো বলেন, “আমরা অবশ্যই সাম্প্রতিক মেক্সিকোর পরিস্থিতি মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে শুরুতেই বলতে চাই, মেক্সিকো, তাদের প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা নিশ্চিত, সবকিছু যতটা সম্ভব মসৃণভাবে সম্পন্ন হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মেক্সিকো একটি মহান দেশ। পৃথিবীর যেকোনো দেশে নানা ধরনের ঘটনা ঘটে; আমরা চাঁদে বা অন্য কোনো গ্রহে বাস করি না। এজন্যই সরকার, পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ রয়েছে, যারা শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”
গত রবিবার, মেক্সিকান সেনাবাহিনী জলিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের প্রধান নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সারভান্তেস, যাকে ‘এল মেনচো’ নামে ডাকা হয়, তাকে হত্যা করে। এর পরই কয়েক দিন ধরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কার্টেল সদস্যরা গাড়ি ও ঘরে আগুন দেয় এবং এক ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে সড়ক অবরোধ করে।
মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সহিংসতায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে। গত রবিবার স্থানীয় লিগের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচও স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল কেরেতারো শহরে, যা মেক্সিকো বনাম আইসল্যান্ড প্রীতি ম্যাচের অংশ ছিল।
মেক্সিকোতে মোট ১৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে স্বাগতিক দলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচও রয়েছে। জলিস্কো কার্টেলের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গুয়াদালাহারা শহরে চারটি ম্যাচ আয়োজন হবে। এছাড়া, কলম্বিয়া দলের একটি ম্যাচ মেক্সিকো সিটিতে এবং আরেকটি গুয়াদালাহারায় খেলা হবে।
কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রামন জেসুরুন বলেন, ‘আমাদের প্রথম দুটি ম্যাচ মেক্সিকোতে। তবে আমরা জানি তারা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবে এবং এগিয়ে যাবে। আমার ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণে আমি পুরোপুরি আশ্বস্ত যে মেক্সিকো খুব দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করবে।’
তবে অন্যান্য দেশ কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, মার্চে মেক্সিকোর সঙ্গে নির্ধারিত প্রীতি ম্যাচের আগে তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। জ্যামাইকা ২৬ মার্চ গুয়াদালাহারা শহরে নিউ ক্যালেডোনিয়া দলের বিপক্ষে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ সেমিফাইনালে খেলবে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল বিশ্বকাপে স্থান নিশ্চিত করতে কঙ্গো দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
জামাইকান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মাইকেল রিকেটস বলেন, “ম্যাচগুলো মার্চের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে, তাই এখনো এক মাস সময় আছে পরিস্থিতি দেখার জন্য। কিন্তু সত্যি বলতে এটি আমাকে বেশ উদ্বিগ্ন করছে। কনকাকাফ এবং ফিফা আমাদের কী নির্দেশনা দেয়, আমরা সেটির অপেক্ষায় থাকব। ম্যাচ হবে কি না, নাকি বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা দেখতে হবে।”
অন্যদিকে, মেক্সিকোর আরেকটি শহর মন্টেরেতে একটি প্লে-অফ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বলিভিয়া এবং সুরিনাম মুখোমুখি হবে। বিজয়ী দল বিশ্বকাপে যাওয়ার জন্য ইরাক দলের সঙ্গে খেলবে।
সোমবার প্রেসিডেন্ট শেইনবাম বলেন, “গুয়াদালাহারায় বিশ্বকাপের ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে আমাদের ‘পূর্ণ নিশ্চয়তা’ রয়েছে এবং ‘কোনো ঝুঁকি নেই।’”
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে প্রেসিডেন্সি এবং মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং পরিস্থিতি মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। বিশ্বকাপ হবে এক অসাধারণ উৎসব।”
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
স্পোর্টস এর সর্বশেষ খবর