সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরকে সতেজ রাখতে ইফতারে অনেকেই জিরাপানি পান করে থাকেন। আর ইফতারে জিরাপানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
এটি কেবল তৃষ্ণা মেটায় না; বরং আপনার শরীরের ক্লান্তি দূর করে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে ‘সুপার এনার্জি ড্রিংক’ হিসেবে কাজ করে। আর রমজানে রান্নাঘরের পরিচিত মসলা জিরা শুধু স্বাদই বাড়ায় না, পানিতে ভিজিয়ে বা ফুটিয়ে খেলে শরীরের নানা উপকারও করে।
তবে যাদের আলসার, অতিরিক্ত লো ব্লাড প্রেশার কিংবা বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা আছে, তারা নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, ইফতারে জিরাপানির প্রধান উপকারিতা—
১. গ্যাস সমস্যা দূর: রোজায় সারাদিন পেট খালি থাকার পর ইফতারে ভাজাপোড়া বা ভারি খাবার খেলে অনেকেরই গ্যাস, অ্যাসিডিটি কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যা হয়। জিরাপানি শরীরের পাচক এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করে দ্রুত খাবার হজমে সাহায্য করে এবং পেটের অস্বস্তি কমায়।
২. হজম শক্তি বৃদ্ধি: জিরায় থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে ভারি খাবার খেলে বদহজমের ঝুঁকি থাকে। এতে জিরাপানি পেটের গ্যাস, অম্বল ও ফাঁপাভাব কমাতে সাহায্য করে।
৩. অ্যাসিডিটি কমায়: রমজানে অনেকেই ভাজাপোড়া খান। এতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে। জিরাপানি পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
৪. শরীর ঠান্ডা রাখে: জিরা শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গরমের দিনে রোজার পর এটি শরীরকে কিছুটা প্রশান্তি দেয়।
৫. পানিশূন্যতা দূর: সারাদিন রোজার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি হয়। জিরামিশ্রিত পানি আপনার শরীরে দ্রুত জলীয় অংশের ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
৬. ওজন নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত জিরাপানি পান করলে মেটাবলিজম কিছুটা সক্রিয় হয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
৭. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: জিরায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
যেভাবে তৈরি করবেন জিরাপানি?
১. এক গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ জিরা সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। এরপর সকালে তা হালকা গরম করে ছেঁকে নিন।
২. এক চা চামচ জিরা ২ কাপ পানিতে ফুটিয়ে অর্ধেক হলে নামিয়ে ছেঁকে ঠান্ডা করে ইফতারে পান করুন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর