২০২৬ সালের ২৩ জুলাই স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে যখন কমনওয়েলথ গেমসের পর্দা উঠবে, তখন দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি ক্রীড়াপ্রেমীর মনে এক বড় শূন্যতা কাজ করবে। কেবল খরচ কমানোর দোহাই দিয়ে গেমসের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন, কুস্তি এবং টেবিল টেনিসের মতো জনপ্রিয় ইভেন্ট। আয়োজকদের এই 'মিনি' সংস্করণ বা কাটছাঁটের সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যান বলছে, এই দেশগুলোর অর্জিত পদকের একটি বিশাল অংশ আসত এই বাদ পড়া ইভেন্টগুলো থেকেই। ভারত ৫০ শতাংশ পদক হারানোর শঙ্কা রায়েছে। ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৬১টি পদক জিতেছিল, যার মধ্যে ২২টি ছিল সোনা। কিন্তু ২০২৬ সালের গ্লাসগো আসরে যে ১০টি খেলা রাখা হয়েছে, তাতে ভারতের জন্য পদক জয়ের পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে গেছে।
২০২২ সালে ভারত যে ৬১টি পদক পেয়েছিল, তার মধ্যে ৩০টি পদকই (প্রায় অর্ধেক) এসেছিল কুস্তি (১২), ব্যাডমিন্টন (৬), টেবিল টেনিস (৭), ক্রিকেট (১), হকি (২) এবং স্কোয়াশ (২) থেকে। এই সবকটি খেলা এবার গ্লাসগোর তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন এই ইভেন্ট তালিকার কারণে গ্লাসগোতে ভারতের পদক সংখ্যা গতবারের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পাকিস্তানের জন্য কমনওয়েলথ গেমসের সমার্থক শব্দ ছিল 'কুস্তি' ও 'হকি'। দেশটির এ যাবৎ কালের অর্জিত ৮২টি পদকের মধ্যে ৪৬টিই (২১টি সোনাসহ) এসেছে কুস্তি থেকে। কুস্তি বাদ পড়ায় পদক তালিকায় পাকিস্তানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।
এদিকে, বাংলাদেশের অবস্থা আরও শোচনীয়। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের অর্জিত ৮টি পদকের সবকটিই এসেছিল শ্যুটিং থেকে। ২০১৮ সালেও শ্যুটিংয়ে বাংলাদেশ রুপা জিতেছিল। কিন্তু বার্মিংহামের পর গ্লাসগোতেও শ্যুটিং না থাকায় এবং নতুন করে ক্রিকেট বাদ পড়ায় বাংলাদেশের পদক জয়ের স্বপ্ন এখন কেবল ভারোত্তোলন বা অ্যাথলেটিক্সের 'মিরাকলের' ওপর নির্ভরশীল।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, কমনওয়েলথ গেমস ফেডারেশন (CGF) তাদের বাজেট বাঁচাতে গিয়ে এমন কিছু খেলা বেছে নিয়েছে যা মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর (যেমন: অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড) আধিপত্যের জায়গা। নেটবল বা লন বোলসের মতো খেলাগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় একদমই জনপ্রিয় নয়, অথচ গেমসের বৈশ্বিক চরিত্র বিসর্জন দিয়ে সেগুলো রাখা হয়েছে। এর ফলে এশীয় দেশগুলোর দর্শক ও ক্রীড়াবিদদের মধ্যে আসরটি নিয়ে আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে।
গ্লাসগো ২০২৬ হয়তো আর্থিকভাবে একটি সাশ্রয়ী মডেল হিসেবে সফল হবে, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক 'শুকনো' আসর। যদি অ্যাথলেটিক্স বা বক্সিংয়ে নতুন কোনো চমক না আসে, তবে পদক তালিকার তলানিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হতে পারে এই অঞ্চলের পরাশক্তিগুলোকে। এই একপাক্ষিক ইভেন্ট নির্বাচন কি তবে কমনওয়েলথ গেমসের সর্বজনীন আবেদনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না?
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর