জয়পুরহাটের কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় ধর্ষণ চেষ্টাকালে এক নারীর হাতে পুরুষের যৌনাঙ্গ কর্তন এবং স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ধর্ষণ চেষ্টাকালে অভিযুক্তের লিঙ্গ কর্তনের খবর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রোববার (০১ মে) রাত ৮টায় ক্ষেতলাল পৌর এলাকার মুন্দাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুন্দাইল গ্রামের আজমাদ হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২) একই গ্রামের এক নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বকভাবে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে ওই নারী ধারালো ব্লেড দিয়ে অভিযুক্তের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। এরপরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নজরুল এর আগেও বিভিন্নভাবে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করতেন। মানসম্মানের কথা ভেবে এই নারী বিষয়টি কাউকে জানাননি। ঘটনার দিন ওই নারী ঘরে বসে পায়ের নখ কাটছিলেন। এ সময় নজরুল ঘরে ঢুকে পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি করে ঘরে বিছানায় নিয়ে যায়। ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের লোকজন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ওসি।
অপরদিকে, কালাই উপজেলার এলতা উত্তরপাড়া গ্রামে পরকীয়া সন্দেহে স্বামী তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।
রোববার রাত আনুমানিক তিনটার দিকে নিহতের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোছাম্মদ খালেদা (৩৫) কালাই উপজেলার এলতা উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল বারী ওরফে সাইদুরের দ্বিতীয় স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় দুই যুগ আগে কালাই উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত মভেজ আলীর ছেলে আব্দুল বাকী ওরফে সাইদুরের সঙ্গে একই উপজেলার এলতা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের মেয়ে মোছাম্মদ খালেদার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এরপর থেকে আব্দুল বাকী ঘর জামাই হিসেবে স্ত্রীর পিতার বাড়িতে থাকেন। সেখানে তাদের সংসারে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। রোববার দুপুরে স্ত্রী মোবাইল ফোনে অন্য লোকের সঙ্গে কথা বলে এমন পরকীয়া সন্দেহে স্বামী তার স্ত্রীকে মারধর করে স্ত্রীর সোনার গহনা কেড়ে নেয়। ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মীমাংসা হয়। পরে গভীর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে স্বামী তার স্ত্রীকে গলায় ওড়না ও তার দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এ সময় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। কালাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরকীয়া সন্দেহের জেরে স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়েছে স্বামী। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান, দীপেন্দ্রনাথ সিংহ।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর