গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় স্কুলশিক্ষিকা শামসুন্নাহার রুমা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
সোমবার (২ মার্চ) চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে শিক্ষক প্রতিনিধি স্থানীয় মানুষ ও নিহতদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন থেকে তারা অবিলম্বে দোষীদের সনাক্ত ও গ্রেফতারসহ সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে গত শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের চক গোবিন্দপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে রুমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় তাঁর হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা এবং গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেঝেতে পড়েছিলো। ঘরের আসবাবপত্রও ছিলো এলোমেলো । প্রায় এক মাস আগেই একই বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
নিহত রুমা উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের চক গোবিন্দপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করতেন। তার একমাত্র ছেলে পড়াশোনার কারণে ঢাকায় থাকায় বেশিরভাগ সময় তিনি একাই থাকতেন।
পরে এ ঘটনায় নিহতের ভাই রোকনুজ্জামান রুবেল বাদী হয়ে একইদিন (শনিবার) থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে এ ঘটনায় মামলার পর ওই দিন রাতেই নিহত শিক্ষিকার দ্বিতীয় স্বামী মামুনুর রশিদ চৌধুরী মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। রাতে আটক করে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়েও দেয়। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় থানায় হাজির হওয়ার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় এখনও রহস্যের জট কাটেনি। একা বসবাসকারী এই শিক্ষিকার বাসায় পূর্বের চুরির ঘটনার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত তথ্য, পারিবারিক সম্পর্ক, ব্যক্তিগত বিরোধসহ সম্ভাব্য সব বিষয় যাচাই করে হত্যার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নাকি চুরি বা ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনা—সব দিকই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর