ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে ছোট্ট একটি ইরানি তান্দুরী চায়ের দোকান। আকারে ছোট হলেও মানবিকতা ও সততার দিক থেকে যেন বিশাল এক প্রতিষ্ঠান। সেই দোকানের মালিক তরুণ উদ্যোক্তা জুবায়ের আবারও প্রমাণ করলেন—সততা এখনও বেঁচে আছে।
তান্দুরী চা-সহ প্রায় ৮০ ধরনের চা বিক্রি করেন জুবায়ের। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটে তার। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী—সব শ্রেণির মানুষ তার দোকানে আড্ডা ও চায়ের স্বাদ নিতে ভিড় করেন। হাসিমুখে আপ্যায়ন আর আন্তরিক ব্যবহারই তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছে।
কয়েকদিন আগে তার দোকানে এক ক্রেতা অসাবধানতাবশত একটি ব্যাগ ফেলে যান। পরে ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে রয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭০ টাকা। এত বড় অঙ্কের টাকা পেয়ে কেউ হয়তো প্রলোভনে পড়তে পারতেন। কিন্তু জুবায়ের সেটি নিজের কাছে না রেখে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।
তিনি স্থানীয়ভাবে মাইকিং করান, পরিচিতজনদের মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে দেন এবং প্রশাসনের সহায়তাও চান। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি স্থানীয় এসিল্যান্ড অফিসেও যান। জুবায়ের বলেন, “এই টাকা আমার নয়। যার টাকা, তাকে খুঁজে বের করাই আমার দায়িত্ব।”
অবশেষে খোঁজ মেলে টাকার প্রকৃত মালিকের। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বাসিন্দা মিরাজ শেখ (প্রায় ৭০)। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের পর তার হৃদরোগের অস্ত্রোপচারের জন্যই টাকাটি জমা করা হয়েছিল। টাকা হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে।
পরিচয় ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে এক আবেগঘন মুহূর্তে জুবায়ের পুরো টাকাই মিরাজ শেখের হাতে তুলে দেন। উপস্থিত সবার চোখে তখন আনন্দাশ্রু। কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত মিরাজ শেখ বলেন, “আজও যে এমন সৎ মানুষ আছে, তা না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।”
শুধু এই ঘটনাই নয়, জানা গেছে জুবায়ের তার মাসিক আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ অসহায় মানুষের সহায়তা ও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করেন। স্থানীয়রা জানান, গোপনে তিনি অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী ও রোগীর পাশে দাঁড়ান।
বর্তমান সময়ে যখন প্রতিনিয়ত চুরি-ডাকাতি ও অনৈতিক ঘটনার খবর শোনা যায়, তখন জুবায়েরের মতো তরুণরা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তার এই মহৎ উদ্যোগ ভাঙ্গা তো বটেই, পুরো ফরিদপুর জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর