যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের দুই সদস্যকে চরির সরঞ্জামসহ আটক করেছে পুলিশ। এ সময় একটি চোরাই মোটরসাইকেল, বিভিন্ন জেলার ভুয়া নম্বর প্লেট, মাস্টার চাবিসহ চুরি কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নাভারণ-সাতক্ষীরা মোড়ে অবস্থিত রাবেয়া সুপার মার্কেটের নিচতলায় ‘শফি মোটরস ওয়ার্কসপ’ নামের একটি গ্যারেজে এ অভিযান চালায়।
আটককৃতরা হলো- সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার ছোট ভেটখালী গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর ছেলে মনিরুজ্জামান (৩৭) এবং যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার ধান্যখোলা গ্রামের ইব্রাহিম মোড়লের ছেলে রাকিব হোসেন (১৯)।
এ ঘটনায় আরও দুজনসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর বুধবার আটককৃতদের যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শার্শা থানার একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শেখ আল আমিনের নেতৃত্বে নাভারণ-সাতক্ষীরা মোড়ে অবস্থিত রাবেয়া সুপার মার্কেটের নিচতলায় ‘শফি মোটরস ওয়ার্কসপ’ নামের একটি গ্যারেজে অভিযান চালায়। এ সময় দুই যুবককে একটি মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ খুলতে দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলেই তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, তাদের হেফাজত থেকে নীল রঙের ইয়ামাহা এফজেডএস ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল (রেজি: খুলনা মেট্রো-ল-১৩-৭২৯৫), একটি ডিজিটাল নম্বর প্লেট, একটি টিনের নম্বর প্লেট, ১১টি কম্পিউটার প্রিন্ট করা লেমিনেটেড নম্বর প্লেট, দুটি মোটরসাইকেলের চাবি এবং লোহার রড দিয়ে তৈরি ‘টি’ আকৃতির একটি মাস্টার চাবি উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
পরে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মোটরসাইকেলটির মালিক খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার এনায়েতুল ইসলামকে খবর দেওয়া হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে তার মোটরসাইকেল শনাক্ত করেন। তিনি জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে মোটরসাইকেলটি চুরি হয়েছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মনিরুজ্জামান স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নাভারণ রেলবাজার এলাকার একটি গ্যারেজে এনে যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করা হতো। চক্রটির মূলহোতা হিসেবে নাভারণ রেল বাজারের সান্দার আলীর ছেলে শফিয়ার রহমান (৪৩) ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার চন্ডিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে খলিল গাজী (৪৬)-এর নাম উল্লেখ করেছে পুলিশ। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় আটক ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩৮০/৪১১/৪১৩/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, আটক দুই আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শার্শা থানা এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই যন্ত্রাংশ বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হবে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর