যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত নিয়ে সিনেটের একটি শুনানিতে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সাবেক এক মার্কিন সেনা সদস্যকে জোর করে বের করে দেওয়ার সময় তার বাহু ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার United States Senate Armed Services Committee–এর এক শুনানি চলাকালে সাবেক United States Marine Corps সদস্য ও প্রতিবাদকারী Brian McGinnis হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ জানান। তিনি বলেন, “ইসরাইলের জন্য কেউই যুদ্ধ করতে চায় না” এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি ও ইসরাইলকে সমর্থনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান।
এরপর নিরাপত্তা বাহিনী তাকে কক্ষ থেকে বের করে দিতে এগিয়ে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকগিনিস প্রথমে বের হতে অস্বীকৃতি জানান এবং দরজার ফ্রেম ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে তাকে সরিয়ে নিতে গিয়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই সময় সিনেটর Tim Sheehy–সহ কয়েকজন United States Capitol Police সদস্য তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। টানাহেঁচড়ার একপর্যায়ে একটি “ক্র্যাক” শব্দ শোনা যায় এবং পরে দেখা যায় ম্যাকগিনিসের বাহু ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর তাকে সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার প্রতিরোধ এবং অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ করার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সিনেটর টিম শিহি এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি একজন “অপরাধী প্রতিবাদকারী”কে শনাক্ত করার জন্য আগে থেকেই সেখানে ছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের কাজে সহায়তা করেছেন।
তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন একজন নির্বাচিত সিনেটর সরাসরি শারীরিকভাবে হস্তক্ষেপ করলেন। এ বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ম্যাকগিনিস নিজেকে সাবেক মেরিন সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি বর্তমানে Green Party of the United States–এর মনোনয়নে উত্তর ক্যারোলাইনা থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী। ঘটনার পরও তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধনীতি, প্রতিবাদের অধিকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর