চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভান্ডার জব্দ করতে দেশটির ভেতরে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তবে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতেই বিবেচনা করা হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “কোনো একসময় হয়তো আমরা তা করব। সেটা ভালো কিছু হতে পারে। তবে এখনই আমরা তা করছি না।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলে নিতে বিশেষ কমান্ডো অভিযান পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ ধরনের অভিযানে অভিজাত বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় প্রবেশ করে পারমাণবিক উপাদান শনাক্ত ও নিরাপদে জব্দ করার দায়িত্ব পালন করতে পারে।
খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে তবেই এমন স্থল অভিযান চালানোর বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনায় ইউরেনিয়াম ভান্ডার মোকাবিলায় দুটি সম্ভাব্য বিকল্প উঠে এসেছে। একটি হলো ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া, আরেকটি হলো সেখানে বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া, যাতে তা অস্ত্র তৈরির উপযোগী না থাকে।
এদিকে আরেকটি প্রস্তাবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম ভান্ডারটি ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টার-এর নিচে সংরক্ষিত থাকতে পারে। গত বছর মার্কিন হামলায় স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এদিকে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী তেহরান-এ জ্বালানি ডিপো ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। একই সময় ইরান ও তাদের মিত্ররা ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে মাসউদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সূত্র: Times of India, The New York Times।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর