ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং তেলের দাম বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শুক্রবার কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই এবং পরিবহন ক্ষেত্রে কোনো ধরণের সংকট সৃষ্টি হবে না।
মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত মোটামুটি স্বস্তিদায়কভাবে চলছে। অনলাইনে টিকিট বিক্রিতে যাত্রীদের চাপ থাকলেও সবাই ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়েছেন।
তিনি জানান, ৩ মার্চ থেকে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কিনতে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু রেলের সক্ষমতার কারণে মাত্র ৩৬ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ২১টি ট্রেন নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়েছে, অধিকাংশই সময়মতো চলেছে। দুটি ট্রেন প্রায় ৪০ মিনিট বিলম্বে ছেড়েছে, যা পূর্বের দুর্ঘটনার কারণে তিন ঘণ্টা বিলম্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী রেল যোগাযোগকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধব করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে মানুষ স্বল্প সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াত করতে পারে। সে লক্ষ্যে সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে রেলে অতিরিক্ত কোচ ও বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২৪টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে। মিটারগেজ লাইনে আরও ১৪টি কোচ এবং ব্রডগেজ লাইনে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু রয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ থেকে ৪২ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। ট্রেনের শিডিউল স্বাভাবিক রাখতে অন্তত ৮৫–৮৭টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন, বর্তমানে ৭৮টি যুক্ত করা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদযাত্রার সময় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়ার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। যাত্রীদের তিনি ধৈর্য ও সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর