নাটোরের গুরুদাসপুরে অসুস্থ গরু জবাই করে অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন গ্রামের মানুষ। উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামে আক্রান্ত ৮ রোগীর মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেয়া হয়েছে। বর্তমানে অ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে গরু মাংস খেতে ভয় পাচ্ছেন ওই গ্রামবাসী।
এদিকে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের পর ওই গ্রামে চিকিৎসা দিচ্ছেন ভেটেরিনারি চিকৎসক ডা. আমিনুল ইসলামসহ দুজন। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে গবাদি পশুকে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আক্রান্তদের ক্ষতস্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
এখন পর্যন্ত আটজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স সদৃশ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। আক্রান্তরা হলেন- গোলাম মোস্তফা চুন্টু, ছানারুল সরকার, আসাদ মোল্লা, লাভলি বেগম, রাহুল সরকার, আবদুর রহিম, আলতাব হোসেন ও খাদিজা বেগম।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাণিসম্পদ অফিস বিষয়টি যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শুক্রবার দুুপুরে এ তথ্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলনালী গ্রামে আব্দুল গফুরের একটি গরু এক সপ্তাহ আগে অসুস্থ হয়। তিনি গরুটি জবাই করে কম দামে মাংস বিক্রি শুরু করেন। ঈদকে সামনে রেখে গ্রামের লোকজন সেই মাংস কিনে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু মাংস কাটা, রান্না করা এবং খাওয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের শরীরে ফোড়ার মতো ফোলা দেখা দেয়। তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাহুল সরকার জানান, তিনি ও তার বাবা ছানারুল সরকার দুজনই আক্রান্ত হয়েছেন। তার বাম হাতে ফোসকা দেখা দিলেও বাবার মুখমণ্ডলের বাম গাল থেকে চোখ পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। এতে তার মুখ ও গলা ফুলে গেছে এবং আক্রান্ত স্থানে তীব্র ব্যথা ও চুলকানি রয়েছে।
আক্রান্ত আব্দুর রহিম জানান, তিনি গরুটি জবাই ও মাংস ছাড়িছেন। গত শনিবার তার ডান হাতের একটি আঙুলে চুলকানির মতো ফোসকা দেখা দেয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে তার অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের বলেন, গবাদি পশু নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে গরুর মাংস খেতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমাস বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান জানান, জবাই করা গরুর কিছু মাংস সংরক্ষণে রাখা হয়েছিল। সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে অসুস্থ গবাদিপশু জবাই না করে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর