পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। ফলে আসন্ন ঈদুল ফিতর-এর নামাজ সেখানে অনুষ্ঠিত হবে না।
সোমবার (১৬ মার্চ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্তের কথা আল-আকসার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ইসলামিক ওয়াকফকে জানিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রতিটি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মীকে ভেতরে থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পাণ্ডুলিপি বিভাগের জন্য অতিরিক্ত একজন কর্মী নিয়োগের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে—কোনো অতিরিক্ত মুসলিম কর্মী ভেতরে প্রবেশ করলে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের নিয়মিত প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম কোনো রমজানে ফিলিস্তিনিরা আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারছেন না। এমনকি পবিত্র লাইলাতুল কদর-এর রাতেও শত শত পুলিশ মোতায়েন করে মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। ফলে হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে পুরোনো শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন।
বর্তমানে জেরুজালেমের পুরোনো শহরের পরিস্থিতি থমথমে। আল-আকসা ও আশপাশের প্রাণবন্ত বাজারগুলো এখন প্রায় জনশূন্য। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কেবল পুরোনো শহরের বাসিন্দাদের চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে, যার ফলে পুরো এলাকাটি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শহরের দেয়ালের কয়েক মিটার বাইরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চললেও ভেতরের এই কড়াকড়ি বৈষম্যমূলক নীতিরই প্রতিফলন।
ইসলামিক ওয়াকফ কাউন্সিলের সদস্য মুস্তাফা আবু সোয়াই বলেন, পুরোনো শহরকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। তার মতে, নিরাপত্তা যদি প্রধান কারণ হতো, তাহলে মুসল্লিদের আল-আকসার নিচের বড় হলগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত, যেখানে হাজার হাজার মানুষ অবস্থান করতে পারে।
ওয়াকফ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই ‘সাময়িক’ নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। অভিযোগ উঠেছে, মসজিদের ভেতর এবং ডোম অব দ্য রক-এর অভ্যন্তরে নজরদারি ক্যামেরা বসিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যার মাধ্যমে পবিত্র এই স্থানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, আল-আকসা মসজিদের ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই এবং এই অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ এবং দীর্ঘদিনের ‘স্ট্যাটাস কো’ বা স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর