• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৯ সেকেন্ড পূর্বে
মোঃ এস হোসেন আকাশ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১০ রাত

শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন, জামাত সকাল ১০টায়

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

বাংলাদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও প্রস্তুত এক মহামিলনের জন্য। শতবর্ষের গৌরবময় ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপমহাদেশেসহ দেশের সর্ব বৃহত্তম ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের ঈদ জামাত।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দিন সকাল ১০টায় শুরু হবে এই ঐতিহাসিক জামাত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লির সমাগমে মুখরিত হবে পুরো এলাকা। আধ্যাত্মিক আবেগ, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দেয় শোলাকিয়া, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ।

প্রায় সাত একর আয়তনের বিশাল ঈদগাহ ময়দানে তৈরি করা হয়েছে ২০৬টি কাতার। মূল ময়দান ছাড়াও আশপাশের সড়ক, পুকুরপাড়, সেতু ও ভবনের ছাদেও অতিরিক্ত মুসল্লিদের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে পুরো এলাকা পরিণত হবে এক বিশাল নামাজের ময়দানে।

জামাতকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মাঠে দাগ কাটা, মেহরাব নির্মাণ, দেয়ালে চুনকাম, অজুখানা স্থাপনসহ সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে পুরো প্রস্তুতি পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশে।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, ঈদ জামাত শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সংকেত প্রদান করা হবে। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের সতর্ক করা হবে-যা শোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের বিশেষ রেওয়াজ।

১৯৯তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় জামাত এখানে হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, ঈদের জামাত ঘিরে থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোতায়েন থাকবে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি।

বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন, র‍্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আলী নোমান শোলাকিয়া মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান দেশের প্রাচীনতম এবং সর্ববৃহৎ ঈদগাহ ময়দান। এই ঈদগাহ ময়দানটি ২০০ বছর ধরে টিকে আছে। এখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। এর ধারাবাহিকতায় এই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবার ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।’

মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘​জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা এখানে আসেন এবং তাঁদের থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা করে থাকে জেলা প্রশাসন। এবারও জেলা প্রশাসন মুসল্লিদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। আশা করি, এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ​ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম ঈদ জামাতের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন। বরাবরের মতো এবারও জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ।

বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন হয়বতনগর এ. ইউ. কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই।

​শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে শোলাকিয়া এক্সপ্রেস নামে বিশেষ ২টি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভৈরব থেকে বিশেষ ট্রেনটি সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ছাড়বে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে এবং কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে। ঈদ জামাত শেষে উভয় ট্রেন কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে দুপুর ১২টায় ফিরতি যাত্রা শুরু করবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, আগত মুসল্লিদের আবাসন ও অজুর জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অস্থায়ী অজুখানাও স্থাপন করা হয়েছে। থাকবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এ ছাড়া সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে নারীদের জন্য পৃথক জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবায় মাঠে পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিরা মাঠে কেবল জায়নামাজ নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। ব্যাগ, ছাতা বা অন্য কিছু বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে ১ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৬টি র‍্যাব টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি ও ব্যাটালিয়ন আনসার মোতায়েন থাকবে। পুরো এলাকা ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৬টি ওয়াচ টাওয়ার রাখা হয়েছে।

​পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে ডিবি, র‍্যাব এবং অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। পুরো ঈদগাহ ময়দান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথ থেকে নজরদারি (Surveillance) করা হবে। বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রতিটি প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর বা তল্লাশির মাধ্যমে মুসল্লিদের প্রবেশ করানো হবে।

র‍্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আলী নোমান বলেন, চেকপোস্ট ও মোবাইল টহলের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে। এ ছাড়া মহাসড়কেও টহল টিম নিয়োজিত আছে। স্নাইপার, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং সাদাপোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও প্রস্তুত দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত আয়োজনের জন্য। লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হবে পুরো এলাকা, একসঙ্গে ধ্বনিত হবে তাকবির— গড়ে উঠবে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বন্ধন।

প্রসঙ্গত, ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী এবং এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। এ জঙ্গি হামলায় পুলিশসহ ১৬ জন মুসল্লি আহত হন। তবু এ ঈদগাহ ময়দানের ধারাবাহিক জামাত আয়োজনে ছন্দপতন ঘটেনি কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে দুই বছর এ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের কোনো জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

এই ঈদগাহের যাত্রা শুরু ১৭৫০ সালে। তবে ১৮২৮ সালে প্রথম আনুমানিক সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সেই থেকেই এই ঈদগাহসহ পুরো এলাকার নামকরণ হয় ‘শোলাকিয়া’। তখন থেকেই এ ঈদগাহ ময়দানটিকে সোয়া লাখিয়া ঈদগাহ ময়দান হিসেবে লোকজন ডাকতে শুরু করেন। পরবর্তীতে উচ্চারণ বিবর্তনে এ ঈদগাহ ময়দানের নাম শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান হিসেবেই সমধিক পরিচিত হয়ে ওঠে। ১৮২৮ সাল থেকে জামাত গণনায় এবার ১৯৯তম জামাত হবে।

সাজু/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com