নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় সংঘটিত একটি কথিত ধর্ষণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে 'মিথ্যা ন্যারেটিভ' তৈরি করে প্রপাগাণ্ডা চালানোর অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেন, হাতিয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির (ন্যাশনাল ক্রাইম পার্টি) নেতারা জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে এনসিপির শীর্ষ নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভুয়া তথ্য প্রচার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
নাছির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে এই ঘটনা সাজানো বা অতিরঞ্জিত, তাহলে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করা হবে। তিনি আরও বলেন, মানবিক কোনো ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করা অনৈতিক এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আগে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত খুনিদের বিচারের দাবিতে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির নেতারা কখনোই সরব ছিলেন না। তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নাম ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, হাদি হত্যার মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে, বিশেষ করে জামায়াত-শিবির ও এনসিপি সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
নাছির উদ্দিন নাছির আরও অভিযোগ করে বলেন, হাদি হত্যার পরপরই প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে যখন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সোচ্চার ছিল, সেখানে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং এখন তারা নিজেদের স্বার্থে বিষয়টি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে এবং রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া দলগুলো বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাসের নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে। এটিকে তিনি শুধু রাজনৈতিক অসততা নয়, বরং একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, হাদি হত্যার বিচার অবশ্যই হতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ায় বা বিএনপির নেতাদের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৮টায় নোয়াখালী জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য রবিউল হাসান পলাশ, সদস্য আবদুল মোতালেব আপেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর