• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩৭ সেকেন্ড পূর্বে
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৯ দুপুর

দেশনেত্রীর স্নেহের ছায়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশনেত্রীর স্নেহের ছায়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
 
সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। 

বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কথা মনে পড়লে কেমন অনুভূত হয় জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি তাকে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি। আমার জীবনের লম্বা পরিসরে দেশনেত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করেছি। তিনি পরম মমতা আর স্নেহের ছায়ায় বছরের পর বছর আমাকে আগলে রেখেছেন। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক জীবনে খুব সাধারণ একজন মাঠকর্মী থেকে তিনি (খালেদা জিয়া) আমাকে পিকআপ (তুলে এনেছেন) করেছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। দেশনেত্রীর সঙ্গে দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মনে হয়েছে— শি হ্যাড ব্লেসিং অয়েজ ফর মি। তার আর্শীবাদ ও আস্থা নিয়ে পথ চলতে গিয়ে দেখেছি— তিনি সবসময় আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, যাতে ভুল পথে পরিচালিত না হই। এমনকি কখনও নিজের অজান্তে ভুল করে ফেললেও দেশনেত্রী আমাকে ক্ষমা করে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।’
 
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আস্থাভাজন সহকর্মী মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমিও চেষ্টা করেছি ম্যাডামের চিন্তা-ভাবনাগুলোকে বাস্তবায়িত করতে। চেষ্টা করেছি তিনি যেভাবে বিএনপিকে এগিয়ে নিতে চান, সেই মোতাবেক কাজ করার।’
 
বিএনপি মহাসচিব আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার দুর্ভাগ্য যে, ম্যাডামের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে আমি হাসপাতালে তার কাছে প্রায় প্রত্যেকদিনই থেকেছি। আবার সৌভাগ্য বলতে পারেন এজন্য যে, এরকম একজন মহান নেত্রীর জীবনের শেষ সময়গুলোতে তার সংস্পর্শে আমি থাকতে পেরেছি। তবে, তার মৃত্যুর আগে হাসপাতালে থাকা সময়গুলো আমাকে ভীষণ পীড়া দিত। কষ্টে বুকের ভেতরটা মাঝে-মধ্যে কুঁকড়ে উঠতো। তবুও মনের ভেতর একরাশ বিশ্বাস রেখে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতাম, এই বুঝি দেশনেত্রী সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এলেন।’ 
  
বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার তুলনা হয় না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বেগম জিয়ার সঙ্গে কারো কোনো তুলনা নেই। তুলনা সম্ভবও না। দেখেন— একটা মানুষ কতটা জনপ্রিয় হলে তার জানাজায় লক্ষ-কোটি মানুষ আসলো। মনে হলো যেন মাটি ফুঁড়ে কী ভীষণ একটা টানে সকলে এসে মিলিত হলো এক জায়গায়। মনে হলো— একেবারে নির্জন-নিঃশব্দ। যখন জানাজা পড়ানো হচ্ছে, তার জন্য দোয়া হচ্ছে, সেই সময়টা ছিল ‘পিনড্রপ সাইলেন্স’ (পিনপতন নীরবতা)। এটা অবিশ্বাস্য। বিএনপির একটা মিটিং কিংবা জনসভাতে দেখা যায়— কত ঝামেলা, অথচ সেদিন কী অদ্ভুতভাবে মানুষ ঠিকই একজন আরেকজনের পেছনে হেঁটে যাচ্ছে, কেউ দৌড় দিচ্ছে না, ধাক্কা দিচ্ছে না। এক অদ্ভুত সুনসান নীরবতা। আমার কাছে মনে হছে এটা আল্লাহ প্রদত্ত একটা ব্যাপার ছিল। এটা নিঃসন্দেহে ঐশ্বরিক ব্যাপার।’ 

দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায়, কেমন অনুভূত হচ্ছে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মৃদু হেসে বলেন, ‘এই অনুভূতি এক কথায় বলা তো মুশকিল। কারণ, দীর্ঘ সময়ের কঠিন সংগ্রামের ইতিহাস পেছনে ফেলে জনগণের রায়ে এই রাষ্ট্র ক্ষমতা, ভালোলাগার সঙ্গে চ্যালেঞ্জও আছে বটে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৮ বছরের সংগ্রাম। এই সংগ্রামে আমাদের অসংখ্য সহকর্মী প্রাণ দিয়েছেন। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ আমাদের অনেক অগ্রবর্তী নেতা গুম হয়েছেন। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে প্রায় দুই বছর কারাগারে আটকে রেখে তার পরে অসুস্থ অবস্থায় ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ করে রাখা হয়েছিল। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে বছরের পর বছর নির্বাসিত করে রাখা— ব্যাপারগুলো ফেইস করা খুব সহজ ছিল না।’
 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই একটা বিশাল সংগ্রামের পর জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আমাদের দল আসতে পেরেছে। আমাদের নেত্রী, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ইতোমধ্যে। আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরে এসেছেন। বহু ঘটনা। সুতরাং যেটা বলা যায়, ভালো লাগা এবং কষ্ট দুটোই রয়েছে। এক কথায় যে অনুভূতি এটা প্রকাশ করা খুবই কঠিন।’

বিএনপির আগামীর পথচলা হবে জনগণের কল্যাণে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমরা জনগণের দাবি নিয়ে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আমরা এই জায়গায় এখন পৌঁছেছি। সুতারাং গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই আগামী দিনে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন, আমরা যেন তার সেই মর্যাদা রক্ষা করতে পারি। জনগণের প্রত্যাশা যেন পূরণ করতে পারি, সে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ 

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন, বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসলে একজন কাজ পাগল মানুষ। অতীতেও আমরা দেখেছি— যখন তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হননি, তখনও একই রকমই ছিলেন। ২০০১ সালে আমরা সরকার গঠন করার পরে ২০০৭ সালে তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের তৃণমূল পর্যায় থেকে কাউন্সিল করলেন। আমার এখনও মনে আছে, প্রথম কাউন্সিলটা হয় আমার ঠাকুরগাঁওয়ে। সময়টা ছিল ডিসেম্বর মাস, কনকনে ঠান্ডা। এর মধ্যেই আমাদের নেতা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ছুটে বেড়ালেন। তখন থেকেই খেয়াল করেছি— কাজে তার কোনো ক্লান্তি নেই।’ 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পরবর্তীতে যখন তিনি (তারেক রহমান) নির্বাসিত হলেন, আমরা দেশে থাকলাম, ম্যাডামও জেলে। আমাদের নেতা তখন দূর থেকেই দলের হাল ধরলেন। নিরলস নেতৃত্ব দিতে থাকলেন। ওই সময় ২৪ ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রেখে গেছেন। বলা যায় ‘হি ওয়াজ অলওয়েজ ডিজিটালি টাচ উইথ আস। প্রত্যেকটি এলাকা, থানা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ডিজিটালি যোগাযোগ করতেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু করেছে যে, বহু বছর পরে এ দেশের মানুষ ভিন্নধর্মী একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। যিনি সাধারণ মানুষের কাতারে থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। আমার খুব দৃঢ় বিশ্বাস— তারেক রহমান তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা বেগম খালেদা জিয়ার মতোই মানুষের মনে জায়গা করে নেবেন। দেশের কল্যাণের জন্য বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।’

প্রচলিত আছে স্থানীয় সরকার সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয় এবং সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে কীভাবে নিজেকে সমালোচনামুক্ত রাখবেন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ শুরু করেছি, এটা হচ্ছে— আমরা আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব দুর্নীতি বন্ধ করবো এবং এ কারণে আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। যেমন- ওয়াসার যে এমডি ছিলেন, তাকে সরিয়ে দিয়েছি। এক মাসের মধ্যে লোকাল গভমেন্টের আরো কিছু ইঞ্জিনিয়ারকে দুর্নীতির দায়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’
 
তিনি বলেন, ‘আমরা এই মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখনও সেই সময়টা আসেনি, যখন আমরা সব বিষয়ে ধারণা নিয়ে ডেফিনেটলি স্ট্রং মেজারস অ্যাগেইনস্ট অ্যানি করাপশন— এই জায়গায় পৌঁছাতে পারবো। যেকোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা খুব শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিতে সচেষ্ট থাকবো।’

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]