মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁর সন্তান হাফেজ মঈন উদ্দিনকে অমানুষিক নির্যাতন ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের মা সুফিয়া খাতুন। তিনি অভিযোগ করেন, লাশটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য দড়ির সাহায্যে রেলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। নিহত হাফেজ মঈন উদ্দিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর ৭নং বারাপাড়া এলাকার মো: ইয়াসিন মিয়ার পুত্র।
সাংবাদিক সম্মেলনে নিহতের মা সুফিয়া খাতুন আরও বলেন, তাঁর পুত্র সদর দক্ষিণ লালমাই উপজেলার বাগমারা এলাকার আল মোকাররম দারুল উলুম মাদ্রাসার হাফেজ শ্রেণীতে লেখাপড়া করত এবং ওই মাদ্রাসার মসজিদে তারাবির নামাজে ইমামতি করতেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হাফেজ মঈন উদ্দিনকে মাওলানা মাজহারুল ইসলাম (৩৫) ও হাফেজ নাজমুল হাসান ডেকে নিয়ে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। তিনি দাবি করেন, তারা তাঁর সন্তানকে ডেকে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে তাঁর সন্তান হাফেজ মঈন উদ্দিনের লাশটিকে একটি দড়ির সাহায্যে বেঁধে সিঁড়ির রেলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং অপপ্রচার করা হয় যে হাফেজ মঈন উদ্দিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান তাঁর পুত্রের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং লাশটিকে একটি সিঁড়ির রেলিংয়ের সাথে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় পুলিশকে খবর দিলে লালমাই থানা পুলিশ একটি ইউডি মামলা করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। মঈন উদ্দিনের মা সুফিয়া খাতুন লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে এই ঘটনা বিচারের দাবিতে নিহত মঈন উদ্দিনের মা দুইজনকে আসামি করে কুমিল্লা আদালতে গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪/১০৯/৫০৬ (২) ধারায় আদালত মামলাটি কুমিল্লা লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর