• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩ মিনিট পূর্বে
রাশেদুল ইসলাম রাশেদ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

অবহেলিত চরে তরমুজে জাগছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

দীর্ঘদিন অবহেলিত ও অনাবাদি পড়ে থাকা গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজ চাষে জেগে উঠেছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভাটি কাপাসিয়া ও বাদামের চরে এবারের মৌসুমে বাম্পার ফলন কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি চরাঞ্চলের কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় প্রায় ৩৫ হেক্টরের বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৩ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়—১৮ হেক্টর জমিতে। গত বছর এই উপজেলায় তরমুজের আবাদ ছিল ৯ হেক্টর।

এ ছাড়া ফুলছড়ি উপজেলায় ১০ হেক্টর, সদর ও গোবিন্দগঞ্জে ৩ হেক্টর করে জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। সাদুল্লাপুর ও সাঘাটা উপজেলায় স্বল্প পরিসরে আবাদ হলেও পলাশবাড়ীতে এবার তরমুজ চাষ হয়নি।

কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলে আশ্বিন মাসে বালুময় জমিতে আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ শুরু হয়। এ পদ্ধতিতে পলিথিন বা শুকনো পাতা দিয়ে মাটি ঢেকে রাখা হয়, ফলে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত তাপ থেকে গাছ সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি ড্রিপ ইরিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে অল্প পানিতেই সেচ দেওয়া সম্ভব হয়। সঠিক পরিচর্যার ফলে প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে চৈত্রেই ফলন ঘরে তোলেন কৃষকরা।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও এখন এটি লাভজনক চাষে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের হিসাবে, হালচাষ, সার, বীজ ও কীটনাশকসহ সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে।

ভাটি কাপাসিয়া গ্রামের কৃষক রাজা মিয়া বলেন, “আগে এই চরে তেমন কিছুই হতো না। এখন তরমুজ চাষ করে ভালো আয় হচ্ছে, ফলে আগ্রহও বাড়ছে।” একই এলাকার কৃষক আলী আজগর মন্ডল বলেন, “বালির চরে এত ভালো তরমুজ হবে ভাবিনি। এখন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই চাষ দেখতে আসছে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শের ফলেই এই সফলতা এসেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অনাবাদি জমিও এখন উৎপাদনশীল হয়ে উঠছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলের কৃষিকে এগিয়ে নিতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। তরমুজের সফলতা দেখে আগামী মৌসুমে আরও বেশি কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছি।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার প্রতিটি চর কৃষির জন্য সম্ভাবনাময়। ইতোমধ্যে চরের ভুট্টা ও মরিচ জেলার ব্র্যান্ড পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় তরমুজের আবাদ ১৩ হেক্টর বেড়েছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলে গম, বাদাম, তিল ও কাউনসহ অন্যান্য ফসলের চাষও বাড়ছে।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com