সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন একজন শিক্ষার্থীর সনদপত্র যাচাইয়ের ফি প্রদান সংক্রান্ত একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। প্রচারিত সেই সংবাদটি সত্য নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতর।
রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর এই তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন একজন শিক্ষার্থীর সনদপত্র যাচাইয়ের ফি প্রদান সংক্রান্ত একটি সংবাদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। এই সংবাদে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
জনমনে বিভ্রান্তি নিরসনের লক্ষ্যে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিম্নে প্রদান করা হলো: “কোন শিক্ষার্থীর সনদ যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিশ্বের কোন বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি যোগাযোগ করে না। মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এধরনের সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় WES, First Advantage, Qualification Cheque, Data Flow, AMS India, UHR-সহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের সনদ যাচাই করিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে ইমেইল পাঠায়।
পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ফি প্রদান করে তাদের সনদ যাচাইয়ে সহযোগিতা করার জন্য পছন্দের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন করে। সে পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ৫০ ডলার ফি প্রদানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সনদ যাচাইয়ের জন্য ইমেইল প্রেরণ করে।
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক (২২/১১/২০১৫) সনদ যাচাইয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ ডলার ফি প্রদানের বিধান রয়েছে। এই ফি কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রদান করে না। এটি প্রদান করে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান।
ফি প্রাপ্তি সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে সনদপত্র যাচাই করা হয়। এরপর রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সনদপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট ইমেইলের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়।
ফেসবুকে আলোচিত শিক্ষার্থীর সনদ যাচাইয়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় প্রতিষ্ঠান ‘UHR’ গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেইল পাঠায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ‘UHR’ এ বাবদ নির্ধারিত ফি প্রদান করেনি। উল্লেখ্য, কোন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ফি প্রদান না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা নিজ দায়িত্বে সোনালী ব্যাংক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় এই ফি জমা দেন। পরবর্তীতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
কিন্তু আলোচিত শিক্ষার্থী গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে এই ফি প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফি না পাওয়ায় ঐদিনই ফিরতি ইমেইলে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সনদ যাচাইয়ের ফি চাওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতর কোন সময়ক্ষেপণ বা দায়িত্ব অবহেলা করেনি। উল্লেখ্য, সনদ যাচাই বাবদ ফি প্রদানের যাবতীয় প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব-সাইটে দেওয়া আছে।
উল্লেখ্য, আরেকজন শিক্ষার্থী Bologna University থেকে প্রেরিত ইমেইলের জবাব দেওয়া হয়নি বলে ফেসবুকে যে দাবি করেছেন তাও মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসংক্রান্ত কোন ইমেইল আসেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এধরনের অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে সনদ যাচাইয়ের ফি আদায় বিষয়ে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসন হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর