যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন বাহিনীর ‘ডুমসডে প্লেন’ হিসেবে পরিচিত Boeing E-4B Nightwatch-কে আকাশে উড়তে দেখা গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
সোমবার নেব্রাস্কার Offutt Air Force Base-এর আকাশে এই বিশেষ বিমানটি চক্কর দিতে দেখা যায়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান ঘাঁটি হওয়ায় ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং অন্তত ছয়বার এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ঘাঁটিতে অবতরণ করে।
Boeing E-4B Nightwatch মূলত একটি ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার, যা পারমাণবিক যুদ্ধ বা জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপদে রেখে সরকার পরিচালনা চালিয়ে যেতে সক্ষম। এ কারণে একে “ফ্লাইং পেন্টাগন” বলেও ডাকা হয়।
এই বিমানে রয়েছে ব্রিফিং রুম, কনফারেন্স রুম, কমান্ড সেন্টার, বিশ্রামাগারসহ নানা সুবিধা। প্রায় ১১২ জন পর্যন্ত বহন করতে সক্ষম এই বিমানটির পাল্লা ৭ হাজার মাইলেরও বেশি। এছাড়া এটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস (EMP) ও সাইবার হামলা সহ্য করার মতো করে বিশেষভাবে নির্মিত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে তার প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান প্রস্তাবে সাড়া না দিলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হতে পারে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “এক রাতেই পুরো দেশকে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব,” যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন হুমকির প্রেক্ষাপটে ‘ডুমসডে প্লেন’-এর উড্ডয়ন কেবল একটি নিয়মিত মহড়া নয়, বরং সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মোট চারটি Boeing E-4B Nightwatch বিমান রয়েছে, যা নিয়মিতভাবে প্রস্তুতি বজায় রাখতে ব্যবহার করা হয়।
সূত্র: New York Post, Daily Mail.
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর