ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুক্রবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তি হবে ইরানের তৈরি ১০-পয়েন্ট যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা, যা ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প গ্রহণ করেছেন। Fars News Agency-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা ইরানের কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক লক্ষ্যগুলোর প্রতিফলন ঘটাচ্ছে এবং এতে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনার মূল বিষয়সমূহ:
১.পরমাণু অস্ত্র নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা: ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে যে, তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
২. সহিংসতা বন্ধ: ইরান ও তার মিত্রগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সব ধরনের আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধের পথ তৈরি হবে।
৩. মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার: মার্কিন সেনাদের অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক ঘাঁটি থেকে ইরানের উপর কোনো হামলা নিষিদ্ধ।
৪. হরমুজ প্রণালীর সীমিত ব্যবহার: দুই সপ্তাহের জন্য দৈনিক সীমিত জাহাজ চলাচল হবে, ইরানের নিরাপদ চলাচল প্রোটোকল ও নিয়মাবলী অনুযায়ী।
৫. সীমান্ত শিথিলকরণ: ইরানের উপর সমস্ত প্রাথমিক, দ্বিতীয় এবং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উঠানো হবে।
৬. যুদ্ধক্ষতিপূরণ: যুদ্ধ থেকে উদ্ভূত ক্ষতির জন্য একটি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক তহবিল তৈরি করা হবে।
৭. পারমাণবিক উত্পাদন স্বীকৃতি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করার অধিকার গ্রহণ করবে এবং উত্পাদনের স্তর নিয়ে আলোচনা হবে।
৮. শান্তি চুক্তি আলোচনার অনুমতি: ইরান আঞ্চলিক দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক শান্তি চুক্তি আলোচনার অধিকার পাবে।
৯. অগ্রাসন নীতি প্রসারণ: আঞ্চলিক সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর প্রতি অগ্রাসন নীতি প্রসারিত হবে।
১০. জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন: সব প্রতিশ্রুতি একটি বৈধ জাতিসংঘ প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।
এই ১০-পয়েন্ট পরিকল্পনা ইরানের জন্য কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে ইরান চাইছে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, একই সঙ্গে মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া সীমিত রেখে নিজের নীতি বাস্তবায়ন করতে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা মূলত এই ১০-পয়েন্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে চলবে, যাতে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা স্থাপন করা যায়।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর