পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের একটি কথিত ‘গোপন ভিডিও’ প্রকাশকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলন করে ১৯ মিনিটের ওই ভিডিও প্রকাশ করে, যা গত বছরের ১৯ ডিসেম্বরের বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।
প্রকাশিত ভিডিও ও ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী হুমায়ুন কবীরকে একাধিক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। এতে মুসলিম ভোট, নির্বাচনী কৌশল, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আসন বণ্টন নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক লেনদেন ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়। তিনি সেখানে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে নিজের ভূমিকা “নির্ণায়ক” হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। মোট ২৯৪ আসনের এই নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর একসময় কংগ্রেস, বিজেপি ও তৃণমূল—তিন দলেই সক্রিয় ছিলেন এবং বর্তমানে নিজের দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি রাজনৈতিক আলোচনায় আরও বেশি জায়গা করে নেন।
ভিডিও প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এটি ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার এবং ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ভোট বিভাজনের চেষ্টা। দলটির নেতা কুণাল ঘোষ ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে “ষড়যন্ত্রমূলক ও নিন্দনীয়” বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের কোনো প্রমাণ দিতে না পারলে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন এবং হাইকোর্টে মামলা করবেন।
এদিকে ভিডিও প্রকাশের পর রাজনৈতিক জটিলতা আরও বাড়ে, যখন আসাদউদ্দিন ওয়াইসির নেতৃত্বাধীন এআইএমআইএম হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে জোট ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেয়। দলটি জানায়, তারা মুসলিম সমাজের মর্যাদা ও আত্মসম্মান ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চায় না।
সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর