পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়েছে। কোনও ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানো ছাড়াই দুই দেশের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে। এমন অবস্থায় সবার দৃষ্টি এখন ঘুরে গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। মূলত এই আলোচনার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শেষ হওয়ার পর দ্রুতই পাকিস্তান ছেড়ে যান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এটি অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত। ধারণা করা হচ্ছিল, রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরের দিকে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে। কিন্তু ভ্যান্স এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে জানান, কোনও চুক্তি হয়নি। এরপরই তিনি পাকিস্তান ত্যাগ করেন।
আলোচনায় প্রধান অচলাবস্থার একটি কারণ ছিল লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রতিশ্রুতি না দেয়া। এছাড়া হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবও ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। এই বিষয়গুলোই শেষ পর্যন্ত আলোচনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর মধ্যে বৈরুত শহরে নির্বিচারে বোমা হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে এই হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল।
এদিকে পাকিস্তান যোগাযোগের পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে। তবে এখন সিদ্ধান্তের ভার ওয়াশিংটনের ওপর। এই আলোচনা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কী বলেন, সেটিই এখন সবার নজরে।
অন্যদিকে ইরানের মেহর বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিদলও পাকিস্তান ত্যাগ করেছে। এই দলে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এর আগে জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ ত্যাগ করে জানান, কোনও চুক্তি হয়নি এবং ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দুই পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, দুই পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাবে, যাতে পুরো অঞ্চলে এবং এর বাইরেও স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তান তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
ইসহাক দার দুই পক্ষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই যুদ্ধবিরতি অর্জনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। পাকিস্তানের এই উপপ্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখে স্থায়ী শান্তির পথে এগিয়ে যাবে।
সুত্র: আল-জাজিরা।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর