মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। বৈঠক শেষে পাকিস্তানেই সেই ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এবার হোয়াইট হাউস জানাল যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন শর্তে ইরান সম্মত হতে পারেনি।
সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্তকে ‘রেড লাইন’ বা অচলাবস্থার মূল বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব শর্তের অনেকগুলোই ইরান আগেও প্রত্যাখ্যান করেছে। ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের পরও তেহরান তার কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জন্য যেসব শর্ত নির্ধারণ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে—
১. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
২. প্রধান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা, যেগুলো গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
৩. ভূগর্ভে সংরক্ষিত বলে ধারণা করা ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা।
৪. আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে একটি বিস্তৃত ‘শান্তি, নিরাপত্তা ও উত্তেজনা হ্রাস কাঠামো’ গ্রহণ করা।
৫. হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথি বিদ্রোহীদের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর জন্য অর্থায়ন বন্ধ করা।
৬. হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা এবং চলাচলের জন্য কোনো টোল না নেয়া
ইসলামাবাদ ত্যাগের সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, তিনি ইরানের সামনে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেয়ার জন্য এখনো সময় রয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় কিছু সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তবুও বৈঠক পুরোপুরি বিরূপ পরিবেশে হয়নি। ট্রাম্প এবং আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় বন্ধ দরজার আড়ালে আলোচনার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু দাবির প্রতি ইরানের আগের আপত্তির কারণে, তেহরান শিগগিরই ট্রাম্পের শর্ত মেনে নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায়, ইরান বৈঠকে বেশ প্রভাব নিয়েই আলোচনা করেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ও ভ্যান্সের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাদের মতে, কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধে ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং আগের আপত্তি সত্ত্বেও এখন তাদের শর্ত মেনে নেওয়াই ইরানের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ ঘোষণাকেও তারা চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন।
সুত্র: সিএনএন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর