হরমুজ প্রণালী দিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ইরানি বাহিনীর কঠোর সতর্কতার মুখে সেগুলো পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম Press TV।
রোববার (১২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, USS Michael Murphy (DDG-112) এবং USS Frank E. Peterson (DDG-121)—এই দুটি ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা চালায়। তবে ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) নৌবাহিনী তাদের বাধা দিয়ে পিছু হটতে বাধ্য করে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখে পৌঁছানোর পর ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ওই জাহাজগুলোর ওপর লক করে এবং ড্রোন মোতায়েন করা হয়। মার্কিন জাহাজগুলোকে ৩০ মিনিটের মধ্যে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় তারা দ্রুত সরে যায়।
প্রতারণামূলক কৌশল ব্যর্থ
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো ইলেকট্রনিক যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করে। এমনকি নিজেদের পরিচয় পরিবর্তন করে ওমানের বাণিজ্যিক জাহাজ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়, যাতে ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা যায়।
তারা ওমান সাগরের দক্ষিণ অংশ দিয়ে উপকূল ঘেঁষে এবং অগভীর পানিপথ ব্যবহার করে গোপনে পারস্য উপসাগরে প্রবেশের পরিকল্পনা করে। তবে Fujairah উপকূলের কাছে টহলরত ইরানি বাহিনী আগেই বিষয়টি শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
সরাসরি সতর্কবার্তা ও পিছু হটা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রথমে USS Frank E. Peterson (DDG-121) এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দ্রুত বুঝতে পারে যে ক্ষেপণাস্ত্র রাডার তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। একই সময়ে আইআরজিসির ড্রোন দুটি ডেস্ট্রয়ারের ওপর উড়তে থাকে।
এরপর আন্তর্জাতিক চ্যানেল ১৬-এ বার্তা দিয়ে জাহাজগুলোকে ৩০ মিনিটের মধ্যে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। সতর্কতা অমান্য করলে সরাসরি হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত মার্কিন জাহাজগুলো সেই নির্দেশ মেনে পিছু হটে।
আলোচনায় প্রভাবের চেষ্টা
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্রভাব ফেলতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ওই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
ইরানের অবস্থান স্পষ্ট
এদিকে, ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা কেবল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতেই রয়েছে।
অন্যদিকে, আইআরজিসি নৌবাহিনী সতর্ক করে জানায়, ভবিষ্যতে মার্কিন সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো অভিযানটি ছিল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং শেষ পর্যন্ত তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ব্যর্থ উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর