পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় টানা ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু, দুই ঘণ্টার এক বৈঠকেই ভেস্তে গেছে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা। এরপরই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একইসঙ্গে ইরানের ওপর নতুন করে হামলারও হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চলমান যুদ্ধবিরতির আবহে ট্রাম্পের এসব ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ নিয়ে টেলিফোনে কথা হয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এই ফোনালাপ হয়েছে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ফোনালাপে আরাগচি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সদ্য সংলাপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। পাশপাশি তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইসলামাবাদ সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির যে পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে— তার ফলাফল বিপজ্জনক হতে পারে।
ইরানের সঙ্গে সংলাপের ব্যর্থতার পর গত ১২ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের সব বন্দরে অবরোধ জারি করা হবে বলে ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানায়, অবরোধ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে সেন্টাকোম।
এদিকে, এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবারের ফোনালাপে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, মস্কো বিশ্বাস করে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে— একই উদ্যোগ ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যেও নেওয়া উচিত।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধ বন্ধে যে কোনো কূটনেতিক উদ্যোগে রাশিয়া সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও আরাগচিকে বলেছেন ল্যাভরভ।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর