মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে আবারও আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদল ফের বৈঠকে যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। তবে উত্তেজনার মধ্যেও নতুন করে সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে এবং তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নতুন করে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমন কোনো চুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না যেখানে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সুযোগ পায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও ইরান এখনও ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। তিনি জানান, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে হবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নিজেদের শর্ত ছাড়া জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সরবরাহ ও চাহিদার পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সরাসরি অবরোধে অংশ না নিলেও ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ বিষয়ে বহুপাক্ষিক বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।
চীন এ অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বহীন’ বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, এতে উত্তেজনা আরও বাড়বে।
এদিকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। যদিও উভয় পক্ষের কঠোর বক্তব্য পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে, তবুও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর