টানা কয়েক দফা দাম বাড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অবশেষে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর স্বর্ণের দাম কিছুটা কমে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে হিসাব-নিকাশের কারণে বাজারে এই দরপতন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৮০৯ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে এটি গত ১৮ মার্চের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল।
জিম উইকফ বলেন, এটি বাজারের স্বাভাবিক “প্রফিট টেকিং” বা দর সংশোধনের অংশ, অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নেওয়ার কারণে সাময়িকভাবে দাম কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং বিশ্বকে “অসাধারণ দুই দিনের” জন্য অপেক্ষা করতে বলেছেন। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এখনো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।
শিকাগো ফেডের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি বলেছেন, তেলের উচ্চমূল্য বজায় থাকলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে এবং ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে হতে পারে। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।
বর্তমানে বাজার বিশ্লেষকরা চলতি বছরে সুদের হার কমার সম্ভাবনা মাত্র ৩১ শতাংশ দেখছেন।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ১.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ৬১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম সামান্য কমলেও প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর