ইসরাইল-এর ডায়াসপোরা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জন্য বিশ্বের শীর্ষ ১০ ‘ইহুদিবিদ্বেষী ও জায়নবাদবিরোধী’ প্রভাবশালী ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদ নেই, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশাল অনুসারী থাকায় তারা জনমতে বড় প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
তালিকায় স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ধরন, তীব্রতা এবং তাদের মাধ্যমে সৃষ্ট সম্ভাব্য ‘ঝুঁকি’ বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
প্রকাশিত তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছেন মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ড্যান বিলজেরিয়ান। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন পরিবেশবাদী কর্মী গ্রেটা থানবার্গ, যিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার। তালিকার অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক টাকার কার্লসন, ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্স এবং অতি-ডানপন্থী কর্মী নিক ফুয়েন্তেস। এছাড়া ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন।
ইসরাইলি মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব ব্যক্তি তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসরাইলবিরোধী বক্তব্য প্রচার করছেন। তবে তালিকাটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন এতে অন্তর্ভুক্ত সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান। তিনি আরটি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরাইল সরকার রাষ্ট্রীয় নীতির সমালোচনা এবং প্রকৃত ইহুদিবিদ্বেষকে এক করে ফেলছে।
নিজেকে ‘সেমিটিক’ দাবি করে তিনি বলেন, গাজা, লেবানন বা ইরানে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করা মানেই ইহুদিদের ঘৃণা করা নয়। তার মতে, ইসরাইলকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখার এই প্রচেষ্টা উদ্বেগজনক।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-এর সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-এ ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা বেড়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর তথ্যমতে, প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান এখন ইসরাইল সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সূত্র: আরটি
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর