কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক আয়োজনে প্রবাসফেরত যুবক হৃদয়ের সাথে কলেজছাত্রী বন্যার আনুষ্ঠানিক বিয়ের মাত্র দুই ঘণ্টা পর বন্যা স্বামীকে তালাক দিয়ে তার প্রেমিক মাসুদকে বিয়ে করেছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার রাতে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামে।
আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার রাতে গনেরগাঁও গ্রামের চুনতি পাড়া মহল্লার মো. মেনু মিয়ার কলেজপড়ুয়া কন্যা বন্যা আক্তারের সাথে পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের কলাদিয়া গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের পুত্র সৌদি আরব থেকে ছুটিতে আসা মো. হৃদয় মিয়ার আনুষ্ঠানিক বিয়ের রাত নির্ধারিত ছিল। সে অনুযায়ী রাত এগারোটার দিকে শতাধিক মেহমান নিয়ে বর কনের বাড়িতে আসেন। ছয় লক্ষ টাকা দেনমোহরে লিখিত কাবিননামা করে বিয়ের কাজ শেষ হয়।
এরপর বরযাত্রীদের খাওয়ানোর সময় মাসুদ নামের এক যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে জানান, বন্যার সাথে তার দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। এ সময় তার মোবাইলে তাদের একত্রে থাকা বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন করেন।
কনের বাড়ির লোকজন মাসুদকে চলে যেতে বললে তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে ধরে মারধর করা হয়। সংবাদ পেয়ে এ প্রতিবেদক ছেলেটিকে বিয়ে বাড়ি থেকে আচমিতা বাজার বিএনপি অফিসে নিয়ে আসেন। বাজারে আসার পর মাসুদ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার জ্ঞান হারানোর বিষয়টি কনের বাবা মেনু মিয়াকে জানালে তারা এসে অসুস্থ মাসুদকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুস্থ হলে পুনরায় তাকে আচমিতা বাজারে নিয়ে আসা হয়।
এ সময় নববিবাহিতা কনে বন্যা আক্তার প্রেমিক মাসুদের সাথেই ঘর সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায় বিয়ে করা প্রবাসী বর হৃদয় ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বন্যা আক্তারকে তৎক্ষণাৎ ডিভোর্স দেওয়া হয়। হৃদয় স্বর্ণালংকার ও বিয়ের জন্য নিয়ে আসা যাবতীয় জিনিসপত্র নিয়ে চলে যান। এ ঘটনার পর রাত সাড়ে তিনটার সময় হোসেনপুর উপজেলার পানান গ্রামের মো. আব্দুর রেজ্জাকের ছেলে মাসুদ মিয়ার (২৪) সাথে বন্যার চার লক্ষ টাকা দেনমোহরে পুনরায় বিয়ে পড়ানো হয়। বিয়ের পর গত শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে মাসুদ মিয়া তার প্রেমিকা স্ত্রীকে নিয়ে খুশি মনে তার বাড়ি হোসেনপুর চলে যান।
প্রথম বিয়ের পর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে প্রেমিককে বিয়ে করা বন্যা আক্তার জানান, মাসুদের সাথে তার দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক চলে আসছিল। পরিবারের লোকজনের চাপে পড়ে তিনি প্রবাসী হৃদয়কে বিয়ে করতে সম্মতি দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, "সত্যিকারের ভালোবাসা কোনোদিন ব্যর্থ হয় না। আমার বিয়ে হয়ে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে মাসুদ পাগলের মতো হয়ে আমাদের বাড়িতে বিয়ের আসরে এসে হাজির হয়। হৃদয় আমাকে ডিভোর্স দিলে পরক্ষণেই আমি মাসুদকে বিয়ে করেছি। মাসুদকে নিয়ে আমি সারাজীবন সুখে থাকতে চাই।" এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর