সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ক্যালিগ্রাফির ছবি পোস্ট করা নিয়ে চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। ওই ক্যালিগ্রাফিতে থাকা ‘ছাত্র রাজনীতি’ লেখা অংশে ছাত্রের বদলে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়া হয়। এ ঘটনা দুইপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ধারালো অস্ত্রের কোপে একজনের পায়ের গোড়ালির অর্ধেক কেটে গেছে। ওই ব্যক্তি শিবিরকর্মী বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীর সিটি গেট এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় বেশকিছু যুবককে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে। তবে তারা কোনপক্ষের তা নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনার পর আগামীকাল বুধবার সব ধরনের পাঠক্রম বন্ধ রেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র হাতে ছিল। এরকম বেশকিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল ছবিগুলোতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরিহিত একজনের মাথায় হেলমেট, ব্লু জিন্স প্যান্ট ও শার্ট পড়া একজনের হাতে ধারালো রামদা ও গেঞ্জি ও জিন্স প্যান্ট পড়া আরেকজনের কোমড়ে বেল্ট।
অন্য ছবিতে দেখা যায়, সাদা জার্সি ও মাথায় টুপি পড়া যুবক রাম দা হাতে, আরেকজন লুঙ্গি, গেঞ্জি পড়ে লাঠি হাতে ও অন্যজন কালো শার্ট ও প্যান্ট পড়ে প্লাস্টিকের পাইপ হাতে দৌঁড়াচ্ছেন। এছাড়া তাদের পেছনে থাকা অনেকের হাতেই ছিল লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ।
এদিকে এ ঘটনায় আহত মো. সামি আলাউদ্দিন নামে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অনেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে অস্ত্র হাতে থাকাদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সিটি কলেজে একটি দেয়ালে ক্যালিগ্রাফি করে লেখা হয় ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সেই লেখায় ছাত্রদলের কিছু কর্মী ছাত্র শব্দটি মুছে, এর ওপরে গুপ্ত লিখে দেয়। এটির ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শেয়ার করা হয়। এরপর থেকে শুরু হয় দুইপক্ষের উত্তেজনা। এনিয়ে মঙ্গলবার সকালে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়। পরে বিকাল ৪টার দিকে আবারও দুইপক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসের সংঘর্ষ পরে নিউ মার্কেটে এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
হামলায় দুইপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, এক যুবকের গোড়ালির অংশ অর্ধেক কেটে ঝুলছে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে গিয়ে বসে পড়েন রাস্তায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই যুবক ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে জানা গেছে।
সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দিকী রনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সিটি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মিশকাত জানান, ক্যাম্পাসের ভিতরে এক দফা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা হয় । পরে পুলিশ আসলেও পুলিশ আমাদের কোন প্রকার সহযোগিতা না করে গেইটের বাইরে বের করে দিলেই দ্বিতীয় দফায় আমাদের ওপর হামলা হয় এতে প্রায় ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়। বিকেলে আমরা যখন বিক্ষোভ মিছিল শুরু করি তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে এবং আমাদের একজন কর্মীর পায়ের গোড়ালি কেটে দেয় তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আমরা বুঝিয়েছি, মারামারির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ হলে কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। বিষয়টা শিক্ষার্থীরা বুঝেছে। এই অবস্থায় দুপুরের পর থেকে এবং বিকেলের শিফটে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’
সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন বলেন, গ্রাফিতির ওপর লেখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দীর্ঘ কয়েক যুগ ছাত্রলীগ একক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। গত ৫ আগস্টের পর নিয়ন্ত্রণ হারায় সংগঠনটি। বর্তমানে ছাত্রদল-শিবির উভয় সংগঠনের কার্যক্রম কলেজে বিরাজমান।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর