• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১০ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২৬, ০৮:২৪ রাত

কোরবানির মাংস কত দিন রাখা যায়

ছবি: সংগৃহীত

কোরবানি ঐতিহাসিক তাৎপর্যময় ইবাদত। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মত্যাগের করুণ ইতিহাস। নবীজি (সা.) হিজরতের পর প্রতি বছর কোরবানি করেছেন।

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী মুকিম ব্যক্তি, যে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব হবে।

নেসাব হলো: স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি। আর রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন  ভরি। আর অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ।

মদিনার প্রথম যুগে খাদ্যের সংকট ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে কোরবানির গোশত তিন দিনের বেশি জমিয়ে রাখতে নিষেধ করেছিলেন। পরে যখন অভাব কমে গেল তখন আবার সংরক্ষণ করে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন।

অনেকে ভাবেন, কোরবানির মাংস ঈদের পরে বা তিন দিনের বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা বৈধ নয়। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, কোরবানির মাংস তিন দিনের বেশি সময় ধরেও সংরক্ষণ করা জায়েজ। ফিলিস্তিনের আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি ফিকহের অধ্যাপক হুসাম আল-দিন ইবনে মুসা আফানা বলেছেন, ‘বেশির ভাগ আলেমের মতে, কোরবানির মাংস তিন দিনের বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা বৈধ।’ এই মতামতের ভিত্তি হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস, যেখানে প্রাথমিকভাবে মাংস সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও পরে তা রহিত করা হয়েছে।

হাদিসে কী আছে

কোরবানির মাংস সংরক্ষণসংক্রান্ত কয়েকটি বিশুদ্ধ হাদিস: আয়েশা (রা.) বলেন, ‘ঈদুল আজহার সময় মরুভূমির দরিদ্র মানুষ শহরে আসত। তখন রাসুল (সা.) বলেছিলেন, ‘তিন দিনের জন্য প্রয়োজনীয় মাংস রাখো, বাকিটা দান করে দাও।’ পরে মুসলিমরা বললেন, ‘আল্লাহর রাসুল, লোকেরা তাদের কোরবানির পশুর চামড়া দিয়ে মশক তৈরি করে এবং মাংসের চর্বি গলায়।’ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেন?’ তারা বললেন, ‘আপনি তো তিন দিনের বেশি মাংস খাওয়া নিষেধ করেছেন।’ তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘আমি এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলাম কারণ সেই সময় দরিদ্ররা এসেছিল। এখন তোমরা খেতে পারো, সংরক্ষণ করতে পারো এবং দান করতে পারো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,৯৭১)।

রাসুল (সা.) বললেন, ‘আমি এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলাম কারণ সেই সময় দরিদ্ররা এসেছিল। এখন তোমরা খেতে পারো, সংরক্ষণ করতে পারো এবং দান করতে পারো।’
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,৯৭১)

সালামা ইবনে আল-আকওয়া (রা.)-এর বর্ণিত আরেকটি হাদিসে আছে: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরবানির পশু জবাই করেছে, সে যেন তিন দিনের বেশি তার মাংস রাখা থেকে বিরত থাকে।’ পরের বছর মুসলিমরা জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহর রাসুল, আমরা কি গত বছরের মতো করব?’ তিনি বললেন, ‘না। সেই বছর মানুষের কষ্ট ছিল, তাই আমি চেয়েছিলাম তোমরা (অভাবীদের) সাহায্য করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫,৫৬৯)

আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে আছে: রাসুল (সা.) বলেছিলেন, ‘হে মদিনার অধিবাসীরা, কোরবানির মাংস তিন দিনের বেশি খেয়ো না।’ পরে মুসলিমরা অভিযোগ করলেন যে তাদের পরিবারে শিশু ও সেবকেরা আছে, যাদের খাওয়ানো প্রয়োজন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘খাও, অন্যদের খাওয়াও এবং সংরক্ষণ করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,৯৭২)

ওপরের হাদিসের ভিত্তিতে বেশির ভাগ আলেম (হানাফি, শাফিঈ, হানবালি ও মালিকি মাজহাবের পণ্ডিতেরা) একমত যে কোরবানির মাংস তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করা জায়েজ। এই অনুমতি রাসুল (সা.)-এর পরবর্তী নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে, যেখানে তিনি মাংস সংরক্ষণের অনুমোদন দিয়েছেন। আধুনিক সময়ে ফ্রিজার ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির সুবিধার কারণে মাংস দীর্ঘদিন নিরাপদে রাখা সম্ভব এবং এটি শরিয়াহর দৃষ্টিকোণে বৈধ। 

বেশির ভাগ আলেম একমত যে কোরবানির মাংস তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করা জায়েজ। এই অনুমতি রাসুল (সা.)-এর পরবর্তী নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে, যেখানে তিনি মাংস সংরক্ষণের অনুমোদন দিয়েছেন।

সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যবহারিক পরামর্শ

 কোরবানির মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবহারিক বিষয় মাথায় রাখা উচিত:

 ১. নিয়তের বিশুদ্ধতা: মাংস সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পরিবারের প্রয়োজন মেটানো বা পরে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা। এটি শুধু অপচয় বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের জন্য হওয়া উচিত নয়।

 ২. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা: মাংস সঠিকভাবে পরিষ্কার করে, সঠিক তাপমাত্রায় ফ্রিজে বা ফ্রিজারে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে এটি নষ্ট না হয়।

 ৩. দানের গুরুত্ব: কোরবানির মাংসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করা উচিত, কারণ এটি কোরবানির অন্যতম উদ্দেশ্য। সংরক্ষণের আগে এই দায়িত্ব পালন করা জরুরি।

 ৪. অপচয় এড়ানো: ইসলাম অপচয় নিষিদ্ধ করেছে। তাই এমন পরিমাণ মাংস সংরক্ষণ করা উচিত, যা যুক্তিসংগতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

এই ঈদে আমরা যেন কোরবানির মাংস সঠিকভাবে বিতরণ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি এবং সমাজে মানবিকতার বন্ধন জোরদার করি।

সূত্র: অ্যাবাউট ইসলাম ডটনেট।

মাসুম/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]