• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৯ মিনিট পূর্বে
মোঃ এস হোসেন আকাশ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬, ০৬:৪২ বিকাল

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম এবং প্রধান গুণ তার অর্থনৈতিক সততা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি নাম, একটি ইতিহাস। উনি প্রতিষ্ঠান। মানুষের জীবনে আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত অনেকগুলো গুণ থাকে।

আমি আমার বইয়ে লিখে গিয়েছি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম এবং প্রধান গুণ, তার অর্থনৈতিক সততা। এই ধরনের সৎ রাজনীতিবিদ অথবা রাষ্ট্রনায়ক এই দেশে খুব কম এসেছে। তার দ্বিতীয় গুণ তার প্রশাসনিক দক্ষতা। তৃতীয় গুণ উনার আইকিউ, উনি বুঝতে পারতেন- কি হবে। উনার সবচেয়ে বড় দোষ ছিলো শেষ পর্যায়ে সবাইকে বিশ্বাস করা এবং সেই বিশ্বাসে উনি জীবন দিয়ে মূল্য দিয়ে গিয়েছেন।

উনার মতো একজন রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে যেভাবে পাহারাবিহীন অবস্থায়, নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রাত যাপন করছিলেন, মানুষের মনে অধিক বিশ্বাস না থাকলে এটা সম্ভব না। উনি ইচ্ছা করলে শত শত মিলিটারি পাহারা দিয়ে রাতে ঘুমাতে পারতেন। কিন্তু উনি মানুষকে বিশ্বাস করতেন, সৈনিকদেরকে বিশ্বাস করতেন, সেই কারণে উনি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় নিরস্ত্র অবস্থায় ঘুমিয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা সদরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপজেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠন আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান এমপি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, বাংলার ইতিহাস যতদিন থাকবে সেই ইতিহাসের প্রধান উপাদান থাকবে মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের যে সন্তান বাংলাদেশ, এই সন্তানটা মুক্তিযুদ্ধের জন্য হয়েছিলো। সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অনেকেই যখন ব্যর্থ হয়েছিলো, তখন একজন মিলিটারি অফিসার যাকে কেউ ২৬ তারিখ সকালবেলাও চিনতো না, তিনিই হয়ে ওঠলেন ইতিহাসের সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথমে নিজের নামে বললেন, ‘আই মেজর জিয়া ডু হিয়ারবাই ডিক্লিয়ার দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্স অব বাংলাদেশ।’ রাজনৈতিক নেতারা তখন বললো যে না আপনার তো কোনো জনগণের সমর্থন নাই, এনডোর্সমেন্ট নাই, কাজেই জনগণের সমর্থন পেয়েই যে নেতা নির্বাচিত সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আপনি ঘোষণা করেন। তখন তিনি দ্বিতীয়বার বললেন, ‘আই মেজর জিয়া ডু হিয়ারবাই ডিক্লিয়ার দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্স অব বাংলাদেশ অন বিহাফ অব আওয়ার গ্রেট লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’ ঘোষণা দুইটা এবং সেই ঘোষণাটা নিজের নামে দিক আর বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে দিক, এই ঘোষণাটা তো আর কেউ দেয় নাই। এই ঘোষণাটা দিতে তো বুকের পাটা লাগবে, বাপের বেটা হওয়া লাগবে। কারণ ঘোষণাটা যদি ফেইল করতো, তার ফাঁসি হইতো। আর কেউ দেয় নাই তো। এই কারণেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ইতিহাসে মহান।

ফজলুর রহমান এমপি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন মিলিটারি শাসক হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থায় থাকতে পারতেন। এটা কিন্তু তিনি থাকেননি। মিলিটারি অফিসার হয়েও তিনি বললেন- না, সবাই ইলেকশন করতে পারবে, সবাই দল করতে পারবে এবং এমনকি বাকশাল-আওয়ামী লীগকেও বললেন, দরখাস্ত করেন, আপনারাও দল করতে পারবেন। ১৯৭৬ সালের ১২ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার এক বছর আগেই জিয়াউর রহমান সাহেব বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন। কাজেই তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান এমপি বলেন, আজকের বাংলাদেশে যদি আমাকে বলতে হয়- যেখানে সারা বাংলাদেশের লোভী নেতারা অর্থনৈতিক কারণে দেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন, যেখানে শুধু লোভের কারণে দেশটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, কয়েক হাজার মানুষ লুট করতে আর ১৮ কোটি মানুষ না খেয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই সময়ে উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি, জিয়াউর রহমানের মতো একজন মহান সৎ নেতা যদি এদেশ শাসন করতো, হয়তোবা বাংলাদেশ সোনার বাংলা হতো। চিরদিন এদেশের মানুষ তাকে সততার জন্য স্বীকার করবে।

ফজলুর রহমান এমপি বলেন, আমরা আজকে যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুদিবস পালন করছি, তখন আরেকজন তার সহধর্মিণী যিনি তিনবার এদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের আজকের দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র এক মাস আগে পৃথিবী ছেড়ে তিনি চলে গেছেন। উনি ছিলেন আপসহীন নেত্রী। অন্যায়ের সঙ্গে উনি কোনোদিন আপস করেন নাই। উনিও থাকলে বা হয়তো আজকের মানুষ আরো বেশি আশাবাদী হতে পারতো এবং দেশ অনেক সুন্দরভাবে চালাতে পারতেন। কিন্তু শহীদ জিয়া নাই, সেই মহান নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরপারে চলে গেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলছি, তাদের যোগ্য সন্তান জনাব তারেক রহমান এখনো পৃথিবীতে রয়ে গেছেন এবং আল্লাহর রহমতে তিনি এখন এদেশের প্রধানমন্ত্রী। উনার প্রধানমন্ত্রীত্বে, উনার নেতৃত্বে আজকে আমরা দেশের দায়িত্ব পেয়েছি।

ফজলুর রহমান যোগ করেন, বিএনপি ২০০৬ সালের পরে ২০২৬ সালে দায়িত্ব পেয়েছে অর্থাৎ ২০ বছর পরে। এই ২০ বছর আমরা অত্যাচারের স্টিম রোলারের নিচে নিজের জীবন পেতে দিয়েছিলাম। কেউ জীবন হারিয়েছি, কেউ বাড়িঘর হারিয়েছি, কেউ জেলখানায় গিয়েছি, কেউ লুকিয়ে রয়েছি, কারো সম্পদ চলে গিয়েছে, নিঃস্ব হয়ে গেছি, আমরা মানুষ ছিলাম না এই দেশে। ২০০৬ সালের পর থেকে ২৬ সাল পর্যন্ত আমরা কোনো মানুষ ছিলাম না। আজকে আমরা বুকভরে বলতে পারি, আল্লাহর রহমতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানুষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি বাংলাদেশের, এই বাংলাদেশকে ইনশাআল্লাহ আমরা গড়ে তুলবো।

ইটনা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এসএম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ও ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী এডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ইটনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনির উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক পলাশ রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জুয়েল।

ইটনা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপনের সঞ্চালনায় এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]