বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল বন রক্ষার দাবিতে ‘ভাওয়াল বন বাঁচাও’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টায় গাজীপুর সদর উপজেলার সিংড়াতলী বাজারের ঐতিহাসিক বটতলা প্রাঙ্গণে লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে ইয়ুথ প্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ, বন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পরিচালক নাঈম হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শফিকুল ইসলাম, নদী ও প্রাকৃতিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, গাজীপুর সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সিদ্দিকুর রহমান আকন্দ, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মিশকাত রাসেল, দক্ষিণ ভাংনাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদ ইবনে মোবারক, হিলফুল এডুকেশন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আব্দু সাত্তার শান্ত, সুলতান উদ্দিন মেমোরিয়াল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ মিলন এবং মাওনা চৌরাস্তা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রওশন হাসান রুবেল। এছাড়াও স্থানীয় জনগণ, তরুণ সমাজ, পরিবেশকর্মী, শিক্ষাবিদ ও বন বিভাগের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যের আধার ভাওয়াল বন বর্তমানে অবৈধ দখল, বন উজাড়, অগ্নিকাণ্ড, পরিবেশ দূষণ এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। এই বন শুধু গাজীপুর বা আশপাশের এলাকার সম্পদ নয়; এটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বক্তারা ভাওয়াল বনের বর্তমান সংকট, বন ধ্বংসের কারণ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি এবং বন সংরক্ষণে তরুণদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি বনে আগুন দেওয়া, অবৈধভাবে গাছ কাটা, বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভাওয়াল বন রক্ষার আন্দোলন আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব আচরণ, বন সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভাওয়াল বন সংরক্ষণে সরকার, স্থানীয় জনগণ এবং তরুণদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর